Site icon Hindustan News Point

‘আগে গুন্ডাদের মুখ্যমন্ত্রী ছিল, এখনের মুখ্যমন্ত্রী গুন্ডা দমনে নেমেছেন,’ নাম না করেই মমতাকে খোঁচা বিধায়কের

Debasis Dhar

শনিবার, ১১ জুলাই বারুইপুরের নিহত নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দ্বিতীয়বার সেখানে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারকেও আর্থিক সহায়তা এবং তাঁর দাদাকে চাকরি দিয়ে প্রতিশ্রুতি রেখেছে রাজ্য সরকার। এদিন মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে দেখা গিয়েছিল সোনারপুর উত্তরের বিধায়ক দেবাশিস ধরকেও (Debasis Dhar)। এ বিষয়ে কী বললেন তিনি?

বিধায়কের কথায়, “নতুন সরকারের নাম বিজেপি সরকার তারা কথা দিয়ে কথা রাখতে জানে। নিহতের পরিবারদের আর্থিক সহায়তা করে তো আর তাদের পরিবারের মানুষদের ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। তবে সরকার সবরকমভাবে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছে। যে প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছিল তা রেখেছে।” এছাড়াও আগামী দিনে এই ধরনের কোনও ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকে নজর রাখা হবে বলেও আশ্বাস দেন সোনারপুর উত্তরের বিধায়ক দেবাশিস ধর (Debasis Dhar)।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকার এক নাবালিকা নিখোঁজ হয়। এরপর ৫ জুলাই সকালে একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, গণধর্ষণের পর তাকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলও। যদিও পরে পুরুষের তরফে জানানো হয় ‘এনকাউন্টার’ নয় বরং পুলিশ নিজের আত্মরক্ষা করতে গিয়ে গুলি চালিয়েছিল। এদিন সোনারপুর উত্তরের বিধায়কের মুখেও সেই একই কথাই শোনা গেল। তিনি বলেন, “এনকাউন্টার নয় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী পুলিশের অধিকার রয়েছে নিজের আত্মরক্ষা করার। এই ঘটনাটিও সেরকম একটি ঘটনা। ওই যুবক পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে চলে চাওয়ায় আত্মরক্ষার জন্যই পুলিশ গুলি চালিয়েছিল।”

এদিকে শুধু বারুইপুর নয়, একই ধরনের নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল সোনারপুরেও। ইতিমধ্যে পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনা প্রসঙ্গে দেবাশিস ধর (Debasis Dhar) বলেন, “নতুন মুখ্যমন্ত্রী আসার পরেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যে যেকোনও অপরাধমূলক ঘটনা, বিশেষ করে নারী নির্যাতনের ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিই মেনে চলা হবে। সোনারপুরের ঘটনাতেও দ্রুত অ্যাকশন নেওয়া হয়েছে। দোষীদের যথাযথ শাস্তিরও ব্যবস্থা করা হবে। বিজেপি সরকার চায় দোষীদের এমন শাস্তি দিতে যাতে এরপর থেকে এরকম কোনও ঘটনা করার আগে তারা ১০ বার ভাবে।”

দ্বিতীয়বার বারুইপুরে শুভেন্দু, দুই নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিশ্রুতি পূরণ সরকারের

নাবালিকার মৃত্যুর জেরে সরকারি সম্পত্তি ও গণপিটুনির ঘটনায় যুক্ত ৩০ জনেও বেশি অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এইভাবে যখন তখন রাস্তা অবরোধ করা বা সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার জন্য শাস্তি দেওয়ায় কি ভবিষ্যতের এই ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা কমবে? দেবাশীষ ধর মনে করেন, জাতীয় সড়ক অবরোধ করা বা সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার আইনত অপরাধ। কাজেই সরকার আগামীতে যে গুন্ডা দমন আইন নিয়ে আসছে সেটি দিয়ে এই ধরনের ঘটনা অনেকটাই কমানো যাবে।

পূর্বে তৃণমূল সরকারের আমলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় মালদার কালিয়াচকে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন এলাকার মানুষেরা। ভাঙা হয়েছিল সরকারি ম্যাজিস্ট্রেটদের গাড়ি। ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল রাজ্যে রাজনীতি। তবে এখন সরকার পাল্টেছে। সোনারপুর উত্তরের বিধায়কের কথায়, সরকারের পালাবদলের পর এই ধরনের গুন্ডারাজ আর চলবে না। ‘আগে গুন্ডাদের মুখ্যমন্ত্রী ছিল, এখনকার মুখ্যমন্ত্রী গুন্ডা দমনে নেমেছেন,’ নাম না করেই মমতাকে খোঁচা দিয়ে বলেন দেবাশিস ধর (Debasis Dhar)। এবার থেকে প্রকৃত অর্থেই আইনের শাসন হবে বলেও আশাবাদী বিধায়ক।


Exit mobile version