বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর আজ, শনিবার ফের দ্বিতীয়বারের মতো বারুইপুরে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিহত নাবালিকা এবং ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। দুই পরিবারেই পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শনিবার সফরের শুরুতেই নিহত নাবালিকার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রী সোজা চলে যান গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে আগের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক সাহায্যের ঘোষণা কার্যকর করেন। ইন্দ্রজিতের দাদা বাপি মণ্ডলের হাতে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন। তাঁর পোস্টিং করা হয়েছে নবগঠিত সূর্যপুর পুলিশ ফাঁড়িতে। (Suvendu Adhikari at Baruipur)
উল্লেখ্য, এদিনই মুখ্যমন্ত্রী সূর্যপুর পুলিশ ফাঁড়ির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। আপাতত এই পুলিশ ফাঁড়িতে ২ জন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই), ৪ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর (এএসআই), ৪ জন মহিলা পুলিশ-সহ মোট ২০ জন পুলিশকর্মী দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিন ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ইন্দ্রজিৎকে ফিরিয়ে দিতে পারব না। তবে খুনিদের চরম শাস্তি হবে।” তাঁর দাবি, ইন্দ্রজিতের মৃত্যু সাধারণ গণপিটুনি নয়, বরং পরিকল্পিত খুন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নাম-পরিচয় দেখে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় ভোটে পরাজিত শক্তি, অতিবাম বা মৌলবাদী সংগঠনের উসকানির সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
সরকারের পক্ষ থেকে ইন্দ্রজিতের বাবা- মায়ের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইন্দ্রজিতের দাদা বাপি মণ্ডলকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। গণবিক্ষোভের সময় ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত তাঁদের বাড়ির সংস্কারের ব্যবস্থাও করেছে প্রশাসন। এছাড়া বৃদ্ধ বাবার জন্য বার্ধক্যভাতা এবং মায়ের জন্য অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকার এক নাবালিকা নিখোঁজ হয়। পরদিন, ৫ জুলাই সকালে একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, গণধর্ষণের পর তাঁকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। (Suvendu Adhikari at Baruipur)
নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভের মাঝে সন্দেহের বশে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক যুবককে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে তিনি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছিলেন। পরে তদন্তে প্রশাসনের তরফেও জানানো হয়, ইন্দ্রজিৎ এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন না। এর আগেও বারুইপুর সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ইন্দ্রজিৎ নির্দোষ ছিলেন এবং তাঁর পরিবারকে সবরকম সাহায্য করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতিই এবার রাখলেন তিনি।
এদিকে, বারুইপুর সফরের পাশাপাশি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে অশান্তিতে ফুলতলায় নিহত প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের পরিবারকেও ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের হাত চেকও তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। (Suvendu Adhikari at Baruipur)












2 thoughts on “দ্বিতীয়বার বারুইপুরে শুভেন্দু, দুই নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিশ্রুতি পূরণ সরকারের”