কলকাতা বিমানবন্দরের হাই সিকিউরিটি জোনে অবস্থিত মসজিদকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হলো। এদিন বিজেপি নেতা সৌরভ শিকদার অভিযোগ করেন, এই ইস্যুতে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্যে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছেন। তাঁর দাবি, হাই সিকিউরিটি জোনের মধ্যে অবস্থিত ওই মসজিদেই কেন শান্তিপূর্ণভাবে নমাজ পড়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে, তার পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য বা বিদেশি শক্তির মদত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা উচিত। (Kolkata Airport Mosque Controversy)
সৌরভের অভিযোগ, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বেষ্টনির ভিতরে শুধুমাত্র আধার কার্ড দেখিয়ে বহু মানুষ ওই মসজিদে প্রবেশ করছেন। সেখান থেকে কোনও ছবি বা ভিডিয়ো বাইরে যাচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, গৌরীপুর-সহ আশপাশে একাধিক মসজিদ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র রানওয়ের হাই সিকিউরিটি জোনে থাকা মসজিদেই নামাজ পড়ার দাবিতে অনড় থাকায় প্রশ্ন তুলছে। (Kolkata Airport Mosque Controversy)
সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী এক কোটি মুসলিমকে কালো ব্যাজ পরে প্রতিবাদের ডাক নিয়েও কড়া আক্রমণ শানান সৌরভ। তাঁর অভিযোগ, ধর্মীয় আবেগকে সামনে রেখে মানুষকে আইন ভাঙতে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। ওয়াকফ বিল আন্দোলনের সময়ের ঘটনাও তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, অতীতেও উত্তেজনামূলক মন্তব্যের পর অশান্তি ছড়িয়েছিল। হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। (Kolkata Airport Mosque Controversy)
‘বিশ্বাস-ব্রাদার্স’ ছাড়াই সুরুচি সংঘের খুঁটি পুজো, কী বললেন বিধায়ক সৌরভ শিকদার?
বিজেপি নেতা জানান, এই বিতর্ক নতুন নয়। ১৯৯৯ সালে প্রয়াত সাংসদ তপন শিকদার প্রথম বিষয়টি সংসদে তোলেন। ২০০২ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী সৈয়দ শাহনওয়াজ হুসেন মসজিদটি সরানোর প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু ২০০৩ সালে বামফ্রন্ট সরকার আইন-শৃঙ্খলার আশঙ্কা দেখিয়ে সেই প্রস্তাবে সহযোগিতা করেনি। এরপর লোকসভা, রাজ্যসভা ও বিধানসভায় একাধিকবার বিষয়টি উঠলেও সমাধান হয়নি বলে দাবি তাঁর। (Kolkata Airport Mosque Controversy)
সৌরভ আরও বলেন, প্রাক্তন পাইলটদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জেনেছেন, জিরো ভিজিবিলিটির পরিস্থিতিতে রানওয়ের এই অংশে বিমান ওঠানামায় অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি হয়। তাঁর মতে, রানওয়ে সম্প্রসারণ হলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল আরও সহজ হবে, বাড়বে কর্মসংস্থানের সুযোগও। তাই শুধুমাত্র ধর্মীয় আবেগের কারণে লক্ষ লক্ষ যাত্রীর নিরাপত্তা ও উন্নয়ন আটকে রাখা উচিত নয়। (Kolkata Airport Mosque Controversy)
একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিদেশি অর্থের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগও তদন্ত করা উচিত। এই বিষয়ে ED-র তদন্তের দাবি জানিয়ে সৌরভ বলেন, এখন সরকার বদলেছে এবং আইন ভাঙার চেষ্টা হলে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি তিনি শান্তিকামী ও জাতীয়তাবাদী মুসলিমদের উদ্দেশে জানান, কোনও উসকানিতে পা দিয়ে আইন যেন নিজের হাতে তারা তুলে না নেয়। (Kolkata Airport Mosque Controversy)
আরও পড়ুন :-খোলা রেলগেট পেরোতেই সর্বনাশ, ট্রেনের ধাক্কা স্কুলগাড়িতে, মৃত তিন এবং আহত একাধিক স্কুলপড়ুয়া











