রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

রথমেলার প্রাণ ছিল ‘ঘাড় নড়া দাদু’, এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই কাঁকসার মৃৎশিল্পীদের

Published on: July 16, 2026
---Advertisement---

বর্ধমানের কাঁকসার ঐতিহ্যবাহী রথতলার রথযাত্রা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, কয়েকশো বছরের পুরনো এক লোকঐতিহ্যেরও সাক্ষী। প্রতি বছর রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে এখানে বসে গ্রামীণ মেলা। আর সেই মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল মাটির তৈরি ‘ঘাড় নড়া দাদু’। সাদা পাকা দাড়ি, হাতে হুকো, আর সামান্য স্পর্শেই ঘাড় নাড়ার বিশেষ কৌশল—এই পুতুল একসময় শিশুদের কাছে ছিল দারুণ জনপ্রিয়। তবে সময়ের সঙ্গে সেই ঐতিহ্য আজ অস্তিত্বের সঙ্কটে। (Kanksa Rath Mela and Clay Art)

কাঁকসার রথতলা এলাকায় বর্তমানে মাত্র সাতটি মৃৎশিল্পী পরিবার এই প্রাচীন শিল্পকে আঁকড়ে ধরে রয়েছে। একসময় রথের মেলায় শত শত মাটির পুতুল বিক্রি করে ভালোই রোজগার হতো তাঁদের। প্রত্যেক শিল্পী ৫০০টিরও বেশি ‘ঘাড় নড়া দাদু’ তৈরি করতেন। কিন্তু এখন মাটির দাম বেড়েছে, উপযুক্ত মাটিও সহজে মিলছে না। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ কমে যাওয়ায় মাটির পুতুলের চাহিদাও ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। (Kanksa Rath Mela and Clay Art)

ফলে অনেক শিল্পী বাধ্য হয়ে কাঠের খেলনা তৈরির দিকে ঝুঁকেছেন। অন্যদিকে শিশুদের পছন্দও বদলেছে। মাটির পুতুলের জায়গা দখল করেছে প্লাস্টিকের ‘ছোটা ভীম’, ‘মটু পাতলু’-র মতো জনপ্রিয় চরিত্রের খেলনা। একসময় এলাকার বাইরের শিল্পীরাও এই মেলায় মাটির পুতুল নিয়ে এলেও এখন সেই ছবিও আর দেখা যায় না। জায়গার অভাবে মেলার পরিসরও আগের তুলনায় অনেকটাই ছোট হয়ে এসেছে।(Kanksa Rath Mela and Clay Art)

মৃৎশিল্পী ধনঞ্জয় দাস জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি এই পুতুল তৈরি করছেন। তাঁর বাবা ও দাদুরাও একই কাজ করতেন। তাঁর দাবি, কাঁকসার এই রথের ইতিহাস সম্ভবত ৩০০ বছরেরও বেশি পুরনো। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেই ধারাবাহিকতাই তাঁরা ধরে রেখেছেন। যদিও আধুনিকতার প্রভাবে মানুষের রুচিতে পরিবর্তন এসেছে, তবু শিল্পের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এখনও এই কাজ করে চলেছেন তাঁরা। তাঁর কথায়, এই কাজ শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের জন্য নয়, বরং শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার এক আন্তরিক প্রয়াস। তবে সরকারি সহায়তার অভাব, কাঁচামালের সংকট এবং উত্তরসূরিদের অনাগ্রহে আগামী দিনে কাঁকসার রথতলার ‘ঘাড় নড়া দাদু’ আদৌ টিকে থাকবে কি না, সেই আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে শিল্পীদের। (Kanksa Rath Mela and Clay Art)

আরও পড়ুন :- এবার মোহনবাগানের নামে মেট্রো স্টেশন করার দাবি, কোন রুটে হবে এই স্টেশন?


Ranita Saha

নতুন নতুন বিষয় জানার ইচ্ছে থেকেই সাংবাদিকতার পেশায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতার স্নাতকোত্তরের ছাত্রী। কলেজ জীবন থেকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার লেখালেখি শুরু। বাংলা, ইংরেজির পাশাপাশি হিন্দিতেও স্বচ্ছন্দ। রাজনীতি ছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক এবং বিনোদন সংক্রান্ত খবর লিখতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বই একমাত্র বন্ধু। পড়ালেখার পাশাপাশি গান, নাচ এবং আঁকা ভালোবাসার বিষয়।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

1 thought on “রথমেলার প্রাণ ছিল ‘ঘাড় নড়া দাদু’, এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই কাঁকসার মৃৎশিল্পীদের”

Leave a Comment