রাজ্যে বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার আগেই খুন শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। মধ্যমগ্রামে প্রকাশ্য রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে হত্যা করা হয় বুধবার। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। আহত হয়েছেন গাড়ির চালকও। গোটা ঘটনার পিছনে বড়সড় ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত স্পষ্ট তদন্তকারীদের কাছে। আর এই পরিস্থিতিতেই এই নিয়ে তৃণমূলের দিকে অভিযোগের আঙুল তুললেন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার তথা সোনারপুর উত্তরের জয়ী বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ধর (Debasish Dhar Bjp Mla)।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “শুভেন্দুদার ব্যাক অফিস সবটাই সামলাত চন্দ্র (চন্দ্রনাথ রথ)। ভীষণ চুপচাপ এবং বুদ্ধিমান ছেলে। তৃণমূলের যত দুর্নীতির ডেটার কন্ট্রোলার ও ছিল। গত সাত দিন ধরে রেইকি চলেছে। আমরা না জিতলে হয়তো আরও রক্ত গঙ্গা বইত। হয়তো এই দুনিয়াতেই থাকতাম না। কোন ঘটনা কী আলাদাভাবে ধরা যাবে না”।
তাঁর আরও অভিযোগ, “তৃণমূল চেষ্টা করছিল যেকোনও ভাবে জিতে রাজ্যকে অশান্ত করে রাখতে। বিজেপি এক মাত্র দল হিন্দুদেরকে বুকে আকলে রাখবে ও ভারতমাতাকে রক্ষা করবে”। তৃণমূলের পাশাপাশি কংগ্রেসকেও কটাক্ষ করেছেন দেবাশিস ধর। তিনি বলেন, “বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী বড় বড় কথা বলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতবর্ষে সবচেয়ে ঘৃণ্যতম নেত্রী”।
দেবাশিস বাবু আরও বলেন, “আমার কাছে খবর রয়েছে আমার বিরুদ্ধে আমাকে প্রাণে মারার জন্য শুটার নিয়োগ করা হয়েছিল। আমাদের নেতারা যারা চোখে চোখ রেখে তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে তাঁদেরকে টার্গেট করছে। বিজেপির ব্যাকবোনকে ভেঙে দেবার জন্য শুভেন্দু দার PA-কে খুন করে গোটা সিস্টেম আঘাত আনতে চেয়েছে তৃণমূল”।
তৃণমূলকে ফের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “মোদীজি বলে গেছেন সবার ফাইল রেডি করা আছে সবাইকে এক্সপোস করবো সকলের বিচার হবে। তৃণমূল লোক থাকতে পারে, পুলিশ অফিসার থাকতে পারে, বাংলাদেশ যোগাযোগ থাকতে পারে। দলের সর্বোচ্চ নেত্রী বলছেন আমি গুন্ডা কন্ট্রোল করি। খেলা হবে, রক্ত নিয়ে খেলার কথা বলেছেন, নারীদের ধর্ষণ করিয়ে লুটপাট, এগুলো প্রতিবাদ মানুষ করেছেন”।
ঘটনার পর বেশ কয়েক ঘণ্টা কেটে গেলেও অভিযুক্তরা এখনও অধরা। তবে খুনিদের জালে পুরতে আঁটঘাট বেঁধে ময়দানে নেমেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন সিআইডি-র উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন রাজ্য পুলিশের কর্তারাও। তদন্তের স্বার্থে সিআইডি এবং রাজ্য পুলিশের সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ গঠন করা হয়েছে।










