পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা নিয়ে ফের রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ তৃণমূল কংগ্রেসের পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনকালে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সমন্বয়ের অভাব, দুর্নীতি এবং অনিয়মের জেরে বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাজ আটকে ছিল। সেই কারণেই জনগণনার মতো সাংবিধানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াও বছরের পর বছর পিছিয়ে গিয়েছে। (Dilip Ghosh)
দিলীপ ঘোষের দাবি, গত দেড় দশকে রাজ্যে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সমন্বয়ের চরম অভাব ছিল। তার ফলেই একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। তাঁর কথায়, “যেখানে সমন্বয় নেই, সেখানে দুর্নীতি বাড়বেই। বহু বেআইনি কাজ হয়েছে, বহু মানুষ তার সঙ্গে জড়িত ছিল। নেতা, মন্ত্রী থেকে প্রশাসনিক কর্তারা— অনেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। এত কিছুর মধ্যেও তারা ১৫ বছর রাজ্য শাসন করেছে। কিন্তু জনগণনার মতো প্রয়োজনীয় কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনও উদ্যোগ নেয়নি।” (Dilip Ghosh)
তিনি আরও বলেন, জনগণনা শুধুমাত্র জনসংখ্যা গণনার বিষয় নয়, বরং উন্নয়ন পরিকল্পনা, সরকারি প্রকল্পের বণ্টন, অবকাঠামো গঠন এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। তাই দীর্ঘদিন এই কাজ আটকে থাকায় রাজ্যের প্রকৃত জনসংখ্যা ও জনবিন্যাস সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। (Dilip Ghosh)
এদিকে রাজ্য সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই ২০২৭ সালের জনগণনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ১১ মে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জনগণনা সংক্রান্ত প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রশাসনের দাবি, এবার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জনগণনার রেফারেন্স তারিখ ধার্য করা হয়েছে ১ মার্চ, ২০২৭। তবে মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হবে তার অনেক আগেই। আগামী অগস্ট মাস থেকে জনগণনার প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হওয়ার কথা। ১ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত নাগরিকদের জন্য চালু থাকবে ডিজিটাল সেলফ-এনুমারেশন ব্যবস্থা, যেখানে মানুষ নিজেরাই অনলাইনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে পারবেন। এরপর ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে হাউস লিস্টিং অপারেশন, যার মাধ্যমে বসতবাড়ি ও পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। (Dilip Ghosh)
প্রশাসনের মতে, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। ফলে জনসংখ্যা, বসবাসের ধরন এবং জনতাত্ত্বিক তথ্যের সঠিক হিসাব রাখা অত্যন্ত জরুরি। সেই লক্ষ্যেই সেলফ-এনুমারেশন পোর্টাল, সিএমএমএস, এইচএলও এবং এইচএলবিসি-সহ একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহায়তার জন্য বিশেষ হেল্পলাইন পরিষেবাও রাখা হবে। সরকারের আশা, প্রযুক্তিনির্ভর এই জনগণনা ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
জুলাই থেকে শুরু আয়ুষ্মান ভারত, ডাক্তার-নার্স নিয়োগেও জোর; বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

