বাংলার রাজ্য রাজনীতিতে এক বিরাট ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা সামনে এল বুধবার। তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া সংস্থা আই-প্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির ম্যারাথন তল্লাশি চলে। সেখানে কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ ভার্মাও উপস্থিত হন। ভার্মা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ঢোকার ৫ মিনিট পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যান। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা ও বিতর্ক।
সূত্রের খবর, আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে বুধবার সকাল থেকে প্রতীক জৈনের কলকাতার আবাসনে তল্লাশি অভিযান শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই তল্লাশির মধ্যেই হঠাৎ মুখ্যমন্ত্রীর সেখানে উপস্থিতি সকলকে চমকে দেয়। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের কয়েকজন শীর্ষ তৃণমূল নেতা ও প্রশাসনিক আধিকারিকও। ঘটনাস্থলে পৌঁছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্তকারী আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন বলে জানা গেছে। কিছুক্ষন পরে প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে সবুজ ফাইল, ল্যাপটপ নিয়ে বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পর সেক্টর ফাইভে গোদরেজ ওয়াটারসাইডে IPAC-এর অফিসে যান। সেখান থেকে মমতার নিরাপত্তারক্ষীরা ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। এরও ১ ঘণ্টার পর IPAC-এর অফিস থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, ‘আমাদের দলের তথ্য, ভোটের পরিকল্পনা ট্রান্সফার করেছে। এটা অপরাধ। মানি পাওয়া, মাসল পাওয়ার ব্যবহার করেছে।’
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিরোধী দল বিজেপি। তাদের অভিযোগ, তদন্তাধীন ব্যক্তির বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিজেপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তদন্তে হস্তক্ষেপ করছেন।”
অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল। তাদের বক্তব্য, আগামী দিনের নির্বাচনকে সামনে রেখেই বিরোধীদের দমাতে এই ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে। IPAC
সব মিলিয়ে, ইডি তল্লাশি ও মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি বাংলার রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই ঘটনায় আগামী দিনে রাজ্য-রাজনীতিতে উত্তাপ আরও বাড়বে বলেই ইঙ্গিত।











