বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পেরিয়ে গিয়েছে পাঁচদিন। কিন্তু এখনও বিভিন্ন জেলায় দেখা যাচ্ছে ভোট পরবর্তী হিংসার ছবি। শনিবার সোনারপুর দক্ষিণের মালঞ্চ মাহিনগর এলাকায় বিজেপি কর্মী প্রণব মণ্ডলের বাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। এই ঘটনার পিছনে তৃণমূলের হাত রয়েছে, অভিযোগ বিজেপি কর্মীর। অভিযোগের ভিত্তিতে রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তাপস হালদার-সহ মোট চারজন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
প্রণব মণ্ডলের অভিযোগ, শুক্রবার রাতে তিনি বাড়ির বাইরে ছিলেন। সেই সময় বাড়িতে ছিলেন বৃদ্ধা মা, দাদা ও বউদি। রাত প্রায় সওয়া ১২টা নাগাদ একদল দুষ্কৃতী বাড়িতে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। আগুনে বাড়ির প্রায় সমস্ত আসবাব এবং জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে প্রাণে বেঁচে যান বাড়ির লোকজন। ঘটনার পরেই পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই বিজেপি কর্মী এবং অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাঁর দাবি, এই ঘটনার পিছনে কাউন্সিলার তাপস হালদার ও তাঁর অনুগামীদের হাত রয়েছে। (Fire at BJP Worker’s House)
স্থানীয়দের কথায়, আগুন লাগার পরই প্রণববাবুর দাদা-বউদি মিলে প্রথমে বৃদ্ধা মাকে নিরাপদে বাইরে বের করে আনেন। এরপর নিজেরাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে দমকলের একটি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
Kolkata Police: সরকার পালটাতেই পাল্টি! মমতা-অভিষেককে আনফলো কলকাতা পুলিশের
ঘটনার জেরে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই প্রণব মণ্ডলের বাড়ির সামনে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। পাশাপাশি দমকল এবং ফরেন্সিক দলের সদস্যরাও ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। উল্লেখ্য, এদিন সকালে ব্রিগেডের সভামঞ্চ থেকে শপথ গ্রহণ করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর এই আবহেই বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। (Fire at BJP Worker’s House)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় মোট ৭ জনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তার মধ্যে তাপস হালদার ছাড়াও বিল্টু মিত্র, চিরঞ্জিত ঘোষ এবং মান্নান মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।







