Site icon Hindustan News Point

কামালগাজি থেকে গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা

Saokat Molla

স্বরূপ বিশ্বাসের পর এ বার শওকত মোল্লা। টানা কয়েকদিন ধরে চোর-পুলিশ খেলার পর অবশেষে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত কামালগাজি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হলো প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লাকে। NIA তাঁকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তাঁকে নিউটাউনে NIA-র দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। এই বিষয়ে সোনারপুর উত্তরের বিধায়ক দেবাশিস ধর বলেন, ‘আসলে ওখানে আরও এক সন্ত্রাসবাদী থাকে নজরুল আলি মণ্ডল। ফলে সেখানেই শওকতের মতো সন্ত্রাসবাদী থাকবে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার দিনভর ভাঙড় বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তে শওকত মোল্লার বাড়ি এবং তাঁর সঙ্গে যুক্ত একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় NIA। সেই সময় থেকেই শওকতকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তদন্তকারীরা তাঁর ছেলে-সহ পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং মৌখালি, বারুইপুর, সোনারপুর-সহ একাধিক এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালান।

আরও পড়ুন: তোলাবাজি-শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ

সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার গভীর রাতেও বাসন্তীর চুনোখালি এলাকায় শওকতের সন্ধানে অভিযান চালায় NIA। তার আগেই তাঁর পরিবারের হাতে হাজিরার নোটিস তুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী দু’দিন তিনি তদন্তকারীদের নজর এড়িয়ে আত্মগোপন করে ছিলেন বলে অভিযোগ।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, শওকত মোল্লা ক্রমাগত অবস্থান পরিবর্তন করে গ্রেফতার এড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন না; বরং স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরিবারের বক্তব্য, শুক্রবার রাতে নিউটাউনের NIA দফতরে গিয়ে আত্মসমর্পণের কথা ছিল তাঁর।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই গুঞ্জন ছড়ায় যে শওকত মোল্লা বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে চুনোখালি সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনার কথা শোনা যায়। তবে তদন্তকারীদের একাংশের ধারণা, প্রকৃত অবস্থান গোপন রাখতেই এই ধরনের গুজব ছড়ানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কামালগাজি এলাকা থেকেই তাঁকে আটক ও পরে গ্রেফতার করা হয়।

আরও পড়ুন: সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুমে উইয়ে খাওয়া টাকার পাহাড়! দুর্নীতির অভিযোগ সজল ঘোষের

ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পেয়েছে NIA। তদন্তকারীদের দাবি, শওকত মোল্লার বাড়ি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের কয়েকটি ঠিকানা থেকে বিস্ফোরক তৈরির কাজে ব্যবহৃত হতে পারে এমন রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধার হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই তদন্ত এগোচ্ছে।

এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক ও রাসায়নিকের উৎস খুঁজে বের করা এবং সেগুলি কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছিল তা জানা। এনআইএ মনে করছে, এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারেন শওকত মোল্লা। তাই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিস্ফোরণকাণ্ডের নেপথ্যের চক্র সম্পর্কে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে।


Exit mobile version