ব্যারাকপুরের জনসভা থেকে আনন্দপুরের নাজিরাবাদের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ে সরব হলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য সরাসরি রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতিকে দায়ী করেন তিনি। প্রশ্ন তোলেন, এত মানুষের মৃত্যু ও নিখোঁজের পরেও কেন মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থার মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পাশাপাশি মৃতদের পরিবারকে আশ্বাস দিয়ে শাহ বলেন, ২০২৬ সালে বিজেপি ক্ষমতায় এলে দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলায় বিজেপির রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমশ বাড়ছে। মোদি-শাহের ঘন ঘন রাজ্য সফর তারই ইঙ্গিত। শুক্রবার রাতে কলকাতায় পৌঁছে শনিবার ব্যারাকপুরের আনন্দপুরীতে কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন অমিত শাহ। বক্তৃতার শুরুতেই তিনি অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এরপর তীব্র ভাষায় রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের দুর্নীতির জেরেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং প্রভাবশালীদের বাঁচানোর চেষ্টা চলছে।
মোমো সংস্থার মালিককে গ্রেপ্তার না করার প্রসঙ্গ তুলে শাহ প্রশ্ন করেন, ‘সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ওই সংস্থার মালিক স্পেনে মুখ্যমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন। তা হলে কি এই ঘনিষ্ঠতার কারণেই প্রশাসন নীরব?’ এখানেই থামেননি তিনি। মৃতেরা যদি অনুপ্রবেশকারী হতেন, তবে কি সরকারের অবস্থান একই থাকত? এই প্রশ্নও তোলেন শাহ। গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবিও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত রবিবার রাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদের কারখানা ও গুদামে স্বাভাবিক কাজকর্ম চলছিল। মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ আগুন সবকিছু গ্রাস করে নেয়। এখন সেখানে শুধুই ধ্বংসস্তূপ ও পোড়া গন্ধ। নিখোঁজদের পরিবার এখনও প্রিয়জনের খোঁজে দিন গুনছে। উদ্ধার হওয়া ২৫টি দেহাংশের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ ম্যাপিংয়ের প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসনের দাবি, এই প্রক্রিয়া শেষ হলেই মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ঘটনার প্রায় ৬০ ঘণ্টা পরে ওয়াও মোমো সংস্থার তরফে বিবৃতি প্রকাশ করে পাশের গুদামের আগুনকে দায়ী করা হয়েছে এবং নিহত তিন কর্মীর পরিবারের পাশে থাকার কথা জানানো হয়েছে।











