রাজ্যে ফের মধুচক্র (Honey Trap) চালানোর অভিযোগ। এ বার নাম উঠল বীরভূমের শান্তিনিকেতনের প্রান্তিক এলাকার সঞ্চয়িতা হোম স্টে নামে একটি হোটেলের। একাধিক সূত্র থেকে খবর পেয়ে পুলিশ বুধবার গভীর রাতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় হোটেল থেকে মোট ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে পুরুষ ও মহিলা উভয়ই রয়েছেন। হোটেলের মালিক তৃমীল নেতা বলে অভিযোগ। যদিও সেই নেতার নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট হোটেলটিতে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরেই মধুচক্র চলছিল বলে অভিযোগ আসছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও একাধিকবার সন্দেহজনক কার্যকলাপের খবর পেয়েছে পুলিশ। অবশেষে সেই অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করতে সুপরিকল্পিতভাবে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় হোটেলের একাধিক ঘর থেকে আপত্তিকর পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তিদের আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু নথিপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে খবর। তবে তদন্তের স্বার্থে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। Honey Trap
আটক সকলকে প্রাথমিকভাবে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। এই বেআইনি চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, হোটেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কতটা, এবং এর নেপথ্যে কোনও বড়সড় সংগঠিত চক্র কাজ করছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি হোটেলটির লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন এবং যে তৃণমূল কংগ্রেস নেতার মালিকানায় হোটেলটি রয়েছে, তাঁর ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শোরগোল পড়েছে। বিরোধী শিবিরের তরফে কড়া ভাষায় সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশের এই অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই হোটেলটিকে ঘিরে নানা অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ ছিল। পুলিশের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
পুরো ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের তরফে বিস্তারিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। Honey Trap












