‘পুষ্পা’-বাড়িতে তালা। আজ ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন। সকাল থেকেই সুষ্ঠুভাবে চলছে ভোটগ্রহণ। এরই মধ্যে হঠাৎ জাহাঙ্গির খানের বাড়িতে তালা ঝুলতে দেখা যাওয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। ভোটের দিন তাঁর বাড়িতে গিয়েও দেখা মিলল না প্রার্থীর। পরিবারের সদস্যরাও স্পষ্ট করে কিছু বলতে চাননি। আর এই ঘটনা ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
পুনর্নির্বাচনের ঠিক দু’দিন আগেই ফলতা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে সরে দাঁড়ান জাহাঙ্গির খান। যদিও নির্বাচন কমিশনের নিয়মে তাঁর নাম ইভিএমে থেকেই যাবে। ফলে ভোটের দিনেও অনেক ভোটার বিভ্রান্ত হন। ইতিমধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। (Jahangir Khan)
যদিও তৃণমূল আগেই দাবি করেছে, জাহাঙ্গিরের প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত। তবে বিরোধীরা দাবি করছেন, রাজনৈতিক চাপের কারণেই তিনি সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর ফলতায় পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে বলেও মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
এদিকে ভোটের দিন সকালে জাহাঙ্গির খানের (Jahangir Khan) বাড়িতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম পৌঁছলেও তাঁকে সেখানে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন তাঁকে দেখতে পাওয়া যায়নি। কোথায় গিয়েছেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। এরপর থেকেই এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনের দিন ফলতা কেন্দ্রে ভোটের সময় নানান কারচুপির অভিযোগ ওঠে। আর এরপরই ওই কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। বুথ দখল, ভোটারদের ভয় দেখানো এবং ইভিএমে কারচুপির মতো একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতেই সেই সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। সেই কারণেই এই কেন্দ্রে নতুন করে ভোটগ্রহণ হয়।
এর মধ্যেই জাহাঙ্গির খান (Jahangir Khan) আদালতের দ্বারস্থও হয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা FIR দায়ের হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি সুরক্ষার আবেদন জানান। পরে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রক্ষাকবচ দেয়। তবে এর পরেই হঠাৎ করে প্রার্থী হিসেবে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন জাহাঙ্গির। আর তারপরই ভোটের সকালেই গায়েব।
সব মিলিয়ে ফলতার পুনর্নির্বাচন এবার শুধুমাত্র ভোটের লড়াই নয়, বরং রাজনৈতিক নাটকের কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিণত হয়েছে।

