কলকাতার ১৮৮ A হরিশ মুখার্জি রোডের নম্বর ‘শান্তিনিকেতন’ (Abhishek Banerjee House) এখন ফের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চর্চার কেন্দ্রে। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই এই বাড়িকে (Abhishek Banerjee House) ঘিরে একের পর এক বিতর্ক সামনে এসেছে। প্রথমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়তি নিরাপত্তা প্রত্যাহার, আর এবার কলকাতা পুরসভার তরফে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নোটিশ— দুই ঘটনাকেই ঘিরে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, হরিশ মুখার্জি রোডের এই ‘শান্তিনিকেতন’ বাড়ির বেশ কিছু অংশ অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে। সেই কারণেই কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং অ্যাক্টের ৪০০ ধারার ১ নম্বর উপধারায় বাড়ির অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়ে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পুরসভার কমিশনারের হাতে থাকা বিশেষ ক্ষমতা বলেই এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুরসভা সূত্রের দাবি, নির্দিষ্ট আইন মেনে নির্মাণের আগে পুরসভার অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু দেখা গিয়েছে, (Abhishek Banerjee House) বাড়ির কিছু অংশ সেই অনুমোদনের বাইরে গিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ফলে ওই অংশকে ‘অবৈধ নির্মাণ’ হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই বাড়ির মালিকানা নিয়েও উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। পুরসভার নথি অনুযায়ী, ‘শান্তিনিকেতন’ বাড়িটি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’ নামে একটি সংস্থার নামে নথিভুক্ত। আর সেই সংস্থার মালিক হিসেবে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এই বাড়িতেই থাকেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তিনি তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় এই শান্তিনিকেতনকে বাড়ি হিসেবে দেখান।
‘ঝুঁকে গেল পুষ্পা’, ফলতায় ভোটের আগে সরে দাঁড়ালেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান: Abhishek Banerjee House: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শান্তিনিকেতন’-এ পুরসভার নোটিশ, অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নির্দেশশুধু ‘শান্তিনিকেতন’ নয়, ১২১ কালীঘাট রোডের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরেকটি বাড়িকেও ঘিরে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বাড়িরও বেশ কিছু অংশ অবৈধ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই বাড়ির মালিক হিসেবেও রয়েছেন লতা বন্দ্যোপাধ্যায়। (Abhishek Banerjee House) দুই বাড়িকেই একইভাবে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুরসভা স্পষ্ট জানিয়েছে, কেন ওই অবৈধ নির্মাণ ভাঙা হবে না— তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা সাত দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তর না এলে বা জবাব গ্রহণযোগ্য না হলে পুরসভা নিজেই অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলার পদক্ষেপ করবে। শুধু তাই নয়, সেই ভাঙার সম্পূর্ণ খরচও বহন করতে হবে বাড়ির মালিকপক্ষকেই।
(Abhishek Banerjee House) এই নোটিশ ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে কারণ এর ঠিক আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির অতিরিক্ত নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়া হয়। রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, তিনি অন্যান্য সাংসদদের মতোই প্রোটোকল অনুযায়ী নিরাপত্তা পাবেন। অতিরিক্ত স্ক্যানার, বাড়তি নিরাপত্তাকর্মী ও বিশেষ মোতায়েন তুলে নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, একটি আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হচ্ছিল। নিরাপত্তা প্রত্যাহারের পর এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও অনেকে দাবি করেছেন। আর এবার পুরসভার নোটিশ সামনে আসতেই পাড়ার মোড়ে নতুন করে শুরু হয়েছে ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ নিয়ে জল্পনা।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও এই পুরো বিষয় নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিরাপত্তা প্রত্যাহারের সময়ও তিনি নীরব ছিলেন। এবার বাড়ির অবৈধ অংশ ভাঙার নোটিশ নিয়ে তিনি মুখ খোলেন কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।










1 thought on “Abhishek Banerjee House: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শান্তিনিকেতন’-এ পুরসভার নোটিশ, অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ”