ই-পেপার রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ অজানা তথ্য মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

চিনের মাটিতে উড়ল ভারতের পতাকা, অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান অ্যাথলেটিক্সে সোনা বাংলার মেয়ের

Asian U23 Championship
---Advertisement---

অনেক প্রতিকূলতা। এবার সেই প্রতিকূলতাকে জিতে নিজের দেশের নাম উজ্জ্বল করল দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি ব্লকের বেলপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঙ্গাফলা গ্রামের মেয়ে নাফিসা খাতুন। অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ৪০০ মিটার দৌড়ে স্বর্ণপদক জিতে দেশের পাশাপাশি নিজের জেলা ও গ্রামের নাম উজ্জ্বল করল নাফিসা। চিনে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে সোনা জিতে দেশে ফেরার পর উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে গোটা গ্রাম জুড়ে (Asian U23 Championship)।

প্রত্যন্ত ও সাধারণ কৃষক পরিবারের মেয়ে নাফিসা। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। গ্রামের রাস্তায় নিয়মিত অনুশীলনের মধ্য দিয়েই তাঁর অ্যাথলেটিক্স জীবনের সূচনা হয়। প্রতিকূল পরিস্থিতিকে অতিক্রম করে ধাপে ধাপে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে সে। শিক্ষাজীবনের শুরু কাকদ্বীপ বামানগর হাইস্কুলে। পরবর্তীতে খেলাধুলার সুবিধার কথা ভেবে করঞ্জলী কালিকা গার্লস স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয় নাফিসা। সেখান থেকেই অ্যাথলেটিক্সে পা রাখা (Asian U23 Championship)।

পরে গাজীরমহল জিসি হাইস্কুল থেকে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়া শোনার পর উত্তর ২৪ পরগনার অ্যাডামাস কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে নাফিসা। পাশাপাশি কলকাতার একটি অ্যাথলেটিক্স প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যায়। পরবর্তীতে দক্ষ কোচের তত্ত্বাবধানে বেঙ্গালুরুর একটি ক্রীড়া ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায়।

নাফিসার বাবা শফিউল্লা জমাদার একজন ক্ষুদ্র কৃষক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি একসময় কবাডি খেলায়ও যথেষ্ট দক্ষ ছিলেন। মা সিদ্দিকা খাতুন বর্তমানে এলাকার আশা কর্মী। তিনিও ছাত্রজীবনে খেলাধুলার ক্ষেত্রে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন এবং কলেজে পড়াকালীন হাইজাম্প, লংজাম্প ও দৌড় প্রতিযোগিতায় একাধিক পদক জিতেছিলেন। নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন মেয়ের মাধ্যমে পূরণ করার লক্ষ্য নিয়েই তিনি নাফিসাকে ছোটবেলা থেকে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়ে গিয়েছেন। আজ সেই স্বপ্নই বাস্তবে রূপান্তরিত হলো।

নাফিসার পরিবারে তিন বোন ও এক ভাই রয়েছে। বড় বোন তাবাসসুম জাহানারা স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। দ্বিতীয় বোন সোনিয়া শাহানা আইন নিয়ে পড়াশোনা করছেন। ছোট ভাই সাকিবাল পাঠান জমাদার বর্তমানে গাজীরমহল জিসি হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

স্বর্ণপদক জয়ের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাঙাফলা গ্রামে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। নাফিসাকে একবার দেখার জন্য বহু মানুষ তাঁর বাড়িতে ভিড় করেন। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ক্রীড়াপ্রেমী ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁকে সংবর্ধনা জানান এবং আর্থিক সহায়তার হাতও বাড়িয়ে দেন।

একসময়ের গ্রামের রাস্তায় অনুশীলন করা সেই মেয়েই আজ ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বর্ণপদক জিতে প্রমাণ করে দিলেন—অদম্য ইচ্ছাশক্তি, দ্বারা কঠোর পরিশ্রম ও পরিবারের অনুপ্রেরণা থাকলে প্রত্যন্ত গ্রামের সন্তানও বিশ্বের দরবারে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে। নাফিসা খাতুন এর জলজ্যান্ত উদাহরণ।


Follow Hindustan News Point Channel on WhatsApp

Rima Dutta Ghosh

প্রায় ৮ বছর ধরে সাংবাদিকতার জগতে। শুরুটা মোটেও মসৃণ ছিল না। যাদবপুর ইউনির্ভারসিটি থেকে মাস কম-এ পড়াশোনা করতে করতেই জেলা সাংবাদিকতায় ঢোকা। তারপর থেকেই শুরু চড়াই-উতরাই। সেখান থেকে এবটি ওয়েট পোর্টালে কপি রাইটার হিসাবে কাজ শুরু। তারপর টেলিভিশন জগতে। সেখানে প্রায় ৪ বছর কাজ করা। কপি রাইটার থেকে বুলেটিন প্রডিউসার। কথাটা সহজ হলেও পথ চলাটা ছিল কঠিন।

Join WhatsApp Channel

Join Now

Subscribe on Youtube

Subscribe Now