দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের বিলাসবহুল কার্যালয়। শনিবার সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ এসে গোটা কার্যালয় ঘিরে ফেলে। কার্যালয় ভাঙতে আনা হয় বুলডোজার। অভিযোগ, কোনও রকম প্ল্যান ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল বলে জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছিল (Abhishek Banerjee)।
সূত্রের খবর, ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুনানির জন্য জোড়া নোটিসও পাঠানো হয়েছিল। শুনানির দিন কেউ হাজির হননি। তারপরই আজ সেই পদক্ষেপ আরও এক ধাপ এগোয়। সকাল থেকেই কার্যালয় চত্বর ঘিরে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোটা এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়। বুলডোজার দিয়ে কার্যালয় ভাঙার কাজ শুরু করা হয় (Abhishek Banerjee)।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই কার্যালয়টি বন্ধ ছিল। স্থানীয়ভাবে এটি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’-এর অফিস হিসেবে পরিচিত। প্রশাসনের দাবি, সংস্থাটির মালিকানা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা-মায়ের নামে ছিল।
শনিবার সকাল থেকেই আমতলার কার্যালয়ের চারপাশে গার্ডরেল বসিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশ ও প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। পাশাপাশি দমকল বাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়। বাইরে থেকে ভাঙা হলেও কার্যালয়ের মেইন গেটে তালা ভাঙার জন্য হাতুড়ি নিয়ে আসেন দমকল কর্মীরা। তালা ভেঙে কার্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করেন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের আধকারিকেরা। কার্যালয়ের ভিতরে নথিপত্র খতিয়ে দেখেন তাঁরা।
বুলডোজার দিয়ে কার্যালয়ে ভাঙার সময়ে কার্যালয়ের সামনে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা উচ্ছ্বাস দেখান। স্লোগান দিতে শুরু করেন তাঁরা। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের বক্তব্য, তাঁদের উপর অত্যাচার করা হতো। এখান থেকেই মহিলাদের নিয়ে চক্রান্ত হতো। উত্তেজিত বিজেপি কর্মীরাও ভাঙচুর চালায়। ভেঙে দেওয়া হয় জানলার কাচ। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে উত্তেজিত বিজেপি কর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কোনও সভা করলে মূলত এখান থেকেই পুরোটা দেখভাল করা হতো তৃণমূলের তরফে। অভিষেকও কর্মীদের সঙ্গে মিটিং করতেন এই অফিস থেকেই। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কোনও সভা করলে মূলত এখান থেকেই পুরোটা দেখভাল করা হতো তৃণমূলের তরফে। এলাকার বিধায়ক যদিও স্পষ্টতই বলছেন, এই বিল্ডিংটা পুরোটাই অবৈধ জায়গায় হয়েছে। প্রশাসন এবার ব্যবস্থা নিচ্ছে। আগেই নোটিস দিয়েছিল। জেলা শাসক, এসডিও, বিডিওও সকলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই বিল্ডিং আর রাখার দরকার নেই।










