বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বাড়ছে অস্বস্তি। জলপাইগুড়ি জেলায় সেই চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল, যখন রাজগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায় হঠাৎই দলের জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন।
মঙ্গলবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় এবারের নির্বাচনে রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে খগেশ্বর রায়কে (Khageswar Roy) আর প্রার্থী কর হয়নি। তাঁর জায়গায় প্রার্থী করা হয়েছে এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনকে। তালিকা প্রকাশের পরই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়। অনেকের মতে, এই প্রার্থী বদলই খগেশ্বর রায়ের অসন্তোষের মূল কারণ।
খগেশ্বর রায় (Khageswar Roy) দীর্ঘদিন ধরে এই কেন্দ্রের জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে আসছেন। এলাকার সংগঠন এবং দলের কাজে তাঁর সক্রিয় ভূমিকাও ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে তাঁকে প্রার্থী না করে নতুন মুখকে সুযোগ দেওয়ায় তিনি যে ক্ষুব্ধ হয়েছেন, তা তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকেই স্পষ্ট।
তবে এই পদত্যাগ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং বৃহত্তর অসন্তোষের ইঙ্গিতও দিচ্ছে বলে মত অনেকের। যদিও তাঁর ইস্তফার কারণ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি খগেশ্বর রায় (Khageswar Roy)। তবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যেভাবে বিক্ষোভের ছবি দেখা যাচ্ছে, জলপাইগুড়ির এই ঘটনাও যে তারই প্রতিফলন এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
সম্প্রতি ব্রিগেডে সভা করে গেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২৬’এ তাঁর পাখির চোখ যে বাংলা সে ইঙ্গিত স্পষ্ট। এরই মধ্যে শাসকদলের ঘরে এই কোন্দল বিরোধীদের কাছে যে উপড়ি পাওনা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার বিষয়, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব ঠিক কী পদক্ষেপ নেন এবং নির্বাচনের আগে এই ধরনের অসন্তোষ কতটা প্রভাব ফেলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে।









