জুট শিল্পের সংকট, শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা ও সরকারি বাস পরিষেবার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিত নোয়াপাড়ার বিধায়ক তথা নবনিযুক্ত মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের (Arjun Singh)। রাজ্যের শ্রম ও পরিবহণ দফতরের দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজের অগ্রাধিকার স্পষ্ট করে দিলেন নোয়াপাড়ার বিধায়ক তথা নবনিযুক্ত মন্ত্রী অর্জুন সিং। তিনি জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর উপর যে আস্থা রেখে গুরুত্বপূর্ণ দুই দফতরের দায়িত্ব দিয়েছেন, তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন। শ্রমিক স্বার্থ রক্ষা, শিল্পাঞ্চলের সমস্যা সমাধান এবং পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি (Arjun Singh)।
(Arjun Singh) অর্জুন সিং বলেন, ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শ্রম ও পরিবহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব পাওয়া তাঁর কাছে বড় দায়িত্বের বিষয়। তাঁর দাবি, গত কয়েক দশকে রাজ্যের একাধিক সরকারি দফতরে অচলাবস্থা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ও সংবিধান মেনে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি।
শ্রম দফতরের মন্ত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে অর্জুন সিং বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই তিনি উঠে এসেছেন। তাই শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা এবং তাঁদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে।
বিশেষ করে রাজ্যের চট শিল্পের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। (Arjun Singh) অর্জুন সিংয়ের অভিযোগ, বাংলার জুট শিল্প এবং চা শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই সংকটের মধ্যে রয়েছে। বহু কারখানায় শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা নেই। কখন কারখানা চালু হবে, কখন বন্ধ হয়ে যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, আধুনিকীকরণের অভাব, উৎপাদন ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং পরিকল্পনার ঘাটতির ফলে একসময়ের শক্তিশালী শিল্পক্ষেত্র আজ সংকটের মুখে।
আরও পড়ুন: রাজ্য মন্ত্রিসভায় দপ্তর বন্টন, কে পেলেন কোন দায়িত্ব? এক নজরে সম্পূর্ণ তালিকা
তিনি বলেন, অনেক জুট মিল এখনও পুরনো কাঠামোয় চলছে। শ্রমিকদের বসবাস ও কর্মপরিবেশেরও যথেষ্ট উন্নতি হয়নি। এর ফলে বহু মানুষ জীবিকার সন্ধানে রাজ্যের বাইরে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি তাঁর।
জুট শিল্পের সংকটের জন্য সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকেই দায়ী করেছেন অর্জুন সিং। (Arjun Singh) তাঁর অভিযোগ, গত ১৫ বছরে পাটচাষি ও জুট শ্রমিকদের স্বার্থে কার্যকর কোনও নীতি নেওয়া হয়নি। পাটচাষিদের পাশে সরকার দাঁড়ালে লক্ষ লক্ষ কৃষক ও শ্রমিককে ভিনরাজ্যে কাজের সন্ধানে যেতে হত না বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, জুট শিল্প, চা শিল্প-সহ শ্রমনির্ভর একাধিক ক্ষেত্রকে অবহেলার জেরেই আজ কর্মসংস্থানের সংকট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের বহু শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং শিল্প পুনরুজ্জীবনের পরিবর্তে ভাতা-নির্ভর রাজনীতিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
পরিবহণ দফতর নিয়েও নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেন অর্জুন সিং। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অন্যতম লক্ষ্য হলো রাজ্যের মহিলাদের জন্য সরকারি বাস পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য, নিরাপদ ও বিনামূল্যে করা। সেই লক্ষ্যে পরিবহণ ব্যবস্থায় একাধিক সংস্কার আনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।
(Arjun Singh) অর্জুন সিংয়ের বক্তব্য, রাজ্যের বহু এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত সরকারি বাস পরিষেবা নেই। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের কাছ থেকে বাস পরিষেবা সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়মিত আসে। ফলে কোন কোন রুটে পরিষেবা বাড়ানো দরকার, কোথায় নতুন বাস চালানো যেতে পারে এবং কীভাবে সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও সহজ করা যায়, সেদিকে নজর দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় নতুন দায়িত্ব পালনে খুব বেশি সমস্যায় পড়তে হবে না বলে তাঁর বিশ্বাস।
এদিকে ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিককে নিয়েও মন্তব্য করেন অর্জুন সিং। সম্প্রতি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পার্থ ভৌমিক কোথায় গিয়েছেন বা কী করেছেন, সেই বিষয়ে মন্তব্য করা তাঁর কাজ নয়। বিষয়টি পার্থ ভৌমিকই ভালো বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।
সামগ্রিকভাবে, মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব পাওয়ার পর অর্জুন সিংয়ের বার্তা স্পষ্ট— শ্রমিক স্বার্থরক্ষা, শিল্প পুনরুজ্জীবন এবং পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নকে সামনে রেখেই তিনি কাজ করার বার্তা দিয়েছেন। নতুন শ্রম ও পরিবহণ মন্ত্রী হিসেবে তাঁর পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রাজনৈতিক ও শিল্প মহলের।
আরও পড়ুন: ১২ কোটি টাকায় গয়না চুরি করে নেপালে পালানোর ছক, গ্রেফতার ৩ পরিচারিকা

