বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ১২ কোটি টাকার সোনা, রুপো ও নগদ চুরি করে নেপালে পালানোর চেষ্টা করছিলেন এক স্বামী-স্ত্রী ও তাঁদের শ্যালিকা। (Telangana Theft) তেলেঙ্গানার এক পরিবারের বাড়িতে পরিচারকের কাজ করতেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশের রামপুরে যৌথ অভিযানে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে তেলেঙ্গানা ও রামপুর পুলিশ।
(Telangana Theft) তেলেঙ্গানার সাইবারাবাদ কমিশনারেটের গাচ্চিবউলি এলাকার এক বাড়িতে কাজ করতেন নেপালের বাসিন্দা কমল, বিমলা ও কল্পনা। দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে পরিচারক হিসেবে কাজ করার সুবাদে পরিবারের আস্থা অর্জন করেছিলেন তাঁরা। অভিযোগ, সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই কোটি কোটি টাকার চুরির ছক কষেন তিনজন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বাড়ির মালিক পরিবার নিয়ে বাইরে গেলে সুযোগ কাজে লাগান অভিযুক্তরা। (Telangana Theft) বাড়িতে থাকা বিপুল পরিমাণ সোনা, রুপো ও নগদ অর্থ নিয়ে চম্পট দেন তাঁরা। চুরি যাওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল প্রায় ৭ কেজি সোনা, ১ কেজি রুপো এবং নগদ টাকা। সব মিলিয়ে চুরি হওয়া সম্পত্তির মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
(Telangana Theft) ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিন অভিযুক্ত। বাড়ির মালিকেরা ফিরে এসে চুরির বিষয়টি জানতে পারেন এবং গাচ্চিবউলি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর তদন্তে নামে তেলেঙ্গানা পুলিশ। তদন্তের সময় বিভিন্ন সূত্র ধরে জানা যায়, অভিযুক্তরা নেপালে পালানোর চেষ্টা করছে।
এরপর তেলেঙ্গানা পুলিশ উত্তরপ্রদেশের রামপুর পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। দুই রাজ্যের পুলিশের যৌথ অভিযানে বিভিন্ন জায়গায় নজরদারি ও তল্লাশি শুরু হয়। অবশেষে রামপুরে চেকিং চলাকালীন সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের পর কমল, বিমলা ও কল্পনাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। (Telangana Theft) তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৭ কেজি সোনা, ১ কেজি রুপো এবং প্রায় ২৫ হাজার টাকা নগদ। পুলিশ দাবি করেছে, উদ্ধার হওয়া সমস্ত সামগ্রী ওই বাড়ি থেকেই চুরি করা হয়েছিল।
রামপুরের পুলিশ সুপার সোমেন্দ্র মীনা জানান, তেলেঙ্গানা পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়। দুই রাজ্যের পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই বড়সড় সাফল্য মিলেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের সম্ভাব্য সহযোগীদের খোঁজও চালানো হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্তদের অপরাধমূলক অতীত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে নেপাল পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হবে। তদন্তকারীদের মতে, এত বড় চুরির ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় আবারও সামনে এল গৃহকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতার প্রশ্ন। দীর্ঘদিনের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়া যায়, সেই উদাহরণ হয়ে থাকল গাচ্চিবউলির এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা।
বিশাখাপত্তনম স্টিল প্ল্যান্টে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, গলিত ইস্পাতের ছিটকে কয়েকজন শ্রমিকের মৃত্যু












