একেই মিলছে না আলুর দাম। তার ওপর দোসর এই বৃষ্টি। এখনও জমিতেই পড়ে রয়েছে আলু। আর এরই মধ্যে মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো শুরু হয়েছে অকাল বর্ষণ। ঘূর্ণাবর্তের জেরে গত দু-তিনদিন (Low Pressure) ধরে বিকেলের দিকে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সোমবার সন্ধে থেকে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় বৃষ্টি চলেছে রাজ্যজুড়ে। আর এতেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনার আলু চাষিরা। চাষিরা জানিয়েছেন, “জমিতে এখনও আলু পড়ে রয়েছে। তার মধ্যেই সোমবার প্রায় সারা রাতই বৃষ্টি হয়েছে। ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিও হয়েছে। আলুর তিনভাগের দুভাগই মাঠে পড়ে রয়েছে। বৃষ্টিতে সেই আলু এখন জলের তলায়। আলুর দামও নেই। বিক্রি করার মতো পরিস্থিতিও নেই। জমিতেই অর্ধেক আলু নষ্ট হয়ে যাবে।”
চন্দ্রকোনা ২ নম্বর ব্লকের কইগেড়া গ্রামে টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত আলু চাষ। বিঘার পর বিঘা জমি জলমগ্ন হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার চাষিরা। অকাল বৃষ্টির জেরে মাঠে জল জমে আলুর ফসল কার্যত নষ্ট হওয়ার মুখে। অনেক চাষি ইতিমধ্যেই জমি থেকে আলু তোলার কাজ শুরু করেছিলেন, কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে সেই কাজ থমকে যায়। জমিতে জল দাঁড়িয়ে থাকায় আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চাষিদের অভিযোগ, একদিকে যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন, ফলে ফসল নষ্ট হলে চরম সঙ্কটে (Low Pressure) পড়তে হবে তাঁদের। প্রশাসনের কাছে দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।
অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে দুর্যোগ অনেকটাই কমেছে। আজ শুধু পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম ছাড়া আর কোথাও আবহাওয়া দফতরের তরফে সতর্কতা জারি করা হয়নি। এই তিন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি (Low Pressure) হতে পারে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। দক্ষিণের বাকি জেলাগুলিতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে। তবে আলাদা করে কোথাও আর সতর্কতা জারি হয়নি। তবে পশ্চিম মেদিনীপুরে রয়ে গিয়েছে দুর্যোগের আশঙ্কা। ফলে আলুচাষ আরও ক্ষতির মুখে পড়বে বলে মনে চাষিদের একাংশ।












1 thought on “Low Pressure: ভিলেন বৃষ্টি, বিঘার পর বিঘা জমিতে জমা জল, মাঠেই পড়ে আলু, ক্ষতির মুখে আলু চাষিরা”