SIR সংক্রান্ত মামলার দ্বিতীয় শুনানি ছিল সোমবার অর্থাৎ ৯ ফেব্রুয়ারি। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই মামলার শুনানি হয়।
ওই মামলার প্রথম শুনানিতে গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনজীবীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তোলেন, কেন শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গকে নিশানা করা হচ্ছে। মাত্র তিন মাসের মধ্যেই কেন তাড়াহুড়ো করে কাজ শেষের চেষ্টা করা হচ্ছে। তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। পাশাপাশি, প্রক্রিয়া চলাকালীন এসআইআর আতঙ্ক এবং এসআইআর সংক্রান্ত অন্যান্য কারণে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করে বিষয়টিও প্রধান বিচারপতির নজরে আনেন মমতা। Mamata Banerjee
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল নিয়ে আবেদন করেছিল অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা। তারা দাবি করে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর এসআইআর নিয়ে কোর্টে সওয়াল অসাংবিধানিক। অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার যুক্তি ছিল, ওই মামলা কোনও ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক অধিকারের লড়াই। তাই মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে সওয়াল করতে পারেন না।
কিন্তু ধোপে টিকল না হিন্দু মহাসভার আপত্তি। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এতে অস্বাভাবিক কী আছে? এটাই তো সংবিধানের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রকাশ। এই বিষয়টিকে রাজনীতিকরণ করবেন না। এর পাশাপাশি আদালত এসআইআর মামলার গুরুত্বও স্পষ্ট করে দেন। আদালত বুঝিয়ে দিয়েছে, দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা রেখেই মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন, এটা তাঁর সাংবিধানিক অধিকার।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, এসআইআর-এর কাজে কোনওভাবেই বাধা দেওয়া বরদাস্ত হবে না। তবে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে কমিশনের কাজের কিছুটা অমিল রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছে শীর্ষ আদালত।সোমবারের দ্বিতীয় দফার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, রাজ্য সরকারের ৮,৫০৫ জন আধিকারিককে আগামীকালই বিকেল পাঁচটার মধ্যে জেলা নির্বাচন দফতরে হাজির হতে হবে। আদালত স্পষ্ট জানায়, কমিশন প্রয়োজন মনে করলে তাঁদের ERO বা AERO হিসেবে কাজে লাগাতে পারবে।
প্রসঙ্গত এর আগে, ১৯ জানুয়ারি শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয় যে পশ্চিমবঙ্গে SIR প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হতে হবে। এই প্রক্রিয়া কোনওভাবেই নাগরিকদের অসুবিধার কারণ হওয়া চলবে না।











