ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ককে কেন্দ্র করে ৬ মার্চ, শুক্রবার ধর্মতলায় ধর্নায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আজ দুপুরে কলকাতার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তিনি।
রাজ্যে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে ৬৩ লক্ষের বেশি নাম ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং আরও প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি নাম এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদেই মুখ্যমন্ত্রীর এই ধর্না কর্মসূচি। আগেই এই কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছিল। গত ১ মার্চ সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল যুবনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে ধর্মতলায় ধর্নায় বসবেন মুখ্যমন্ত্রী।
সেই অনুযায়ীই ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে এই কর্মসূচির জন্য বিশেষ মঞ্চ তৈরি করা হয়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি দলের নেতা-মন্ত্রীদের বসার জন্য আলাদা জায়গা রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের জন্যও নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত সময় ছিল দুপুর ২টা। তবে তার আগেই ধর্না মঞ্চে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী এবং অবস্থান শুরু করেন। সূত্রের খবর, পরিস্থিতি অনুযায়ী তিনি দীর্ঘ সময় ধরে এই ধর্নায় থাকতে পারেন।
মঞ্চে উঠেই বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, রাজ্যে প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম এখনও বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে, যা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, যাদের মৃত বলে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেই বাস্তবে জীবিত। নির্বাচন কমিশন যাদের তালিকায় মৃত বলে ঘোষণা করেছে এমন ২২ জনকে ধর্না মঞ্চে আনা হবে বলেও জানান তিনি, যাতে সবাই বুঝতে পারেন যে তারা এখনও জীবিত। এদিন ধর্না মঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে এক রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতিনিধিও অভিযোগ করেন, সমস্ত নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁর নাম ভোটার তালিকায় ওঠেনি।
আবার অন্য এক ছবিও ধরা পড়ল আজ। ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-এর ধর্না মঞ্চের সামনে শুক্রবার কয়েকজন পার্শ্বশিক্ষক বিক্ষোভ দেখান। বেতন বাড়ানোর দাবিতে তাঁরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতিবাদে সামিল হন।

অন্যদিকে বিজেপি এই ধর্না কর্মসূচিকে কটাক্ষ করে দাবি করেছে, অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষার জন্যই মুখ্যমন্ত্রী এই আন্দোলনে বসেছেন। নির্বাচন কমিশন তাদের কাজ যথার্থভাবেই করছে।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে আসার আগেই ধর্মতলার এই ধর্না ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধর্নার পর কি পরিস্থিতি পাল্টাবে? রাজ্যের যোগ্য ভোটাররা কি তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবেন – প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।Mamata Banerjee











