Site icon Hindustan News Point

‘দল বড় হয়েছে, ভালো লাগছে’, NCPI নিয়ে মুখ খুললেন প্রতিষ্ঠাতা শিউলি কুণ্ডু

NCPI Founder

একসময়ের প্রায় অচেনা রাজনৈতিক দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI) এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদদের এই দলে যোগদানের জল্পনা ও বিতর্কের মধ্যেই মুখ খুললেন (NCPI Founder) দলের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রাক্তন সভাপতি শিউলি কুণ্ডু। তিনি জানালেন, বর্তমানে দলের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই, তবে দল বড় জায়গায় পৌঁছেছে শুনে তাঁর ভালো লাগছে।

(NCPI Founder) শিউলি কুণ্ডুর দাবি, ২০২২ সালে হাওড়া জেলার সাঁকরাইল থানা এলাকায় NCPI গঠিত হয়। দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে ছিলেন তিনি নিজে, সৈকত দাস (জেনারাল সেক্রেটারি) এবং সুদাম জেটি (কোষাধ্যক্ষ)। সেই সময় তিনি দলের সভাপতি ছিলেন। তাঁর স্বামী উত্তীয় কুণ্ডু ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

দলের শুরুর দিনের কথা স্মরণ করে শিউলি বলেন, ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে এনসিপিআই অংশগ্রহণ করেছিল। তিনজন প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনে লড়াই করে দল। যদিও কোনও আসনে জয় আসেনি, তবুও ভোটের নিরিখে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক বলেই মনে করেন তিনি। তাঁর কথায়, “সিট না পেলেও ভালো ভোট পেয়েছিলাম। ভালো কনটেস্ট হয়েছিল। প্রথম অভিজ্ঞতা আমাদের ভালো হয়েছিল।”

ত্রিপুরার পর পশ্চিমবঙ্গেও সংগঠন বিস্তারের চেষ্টা শুরু হয়। (NCPI Founder) শিউলির দাবি, পঞ্চায়েত নির্বাচনেও একাধিক জায়গায় প্রার্থী দিয়েছিল দল। তবে বর্তমানে তিনি আর NCPI এর সঙ্গে যুক্ত নন। কিছুদিন আগেই দল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি।

তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহী সাংসদের নতুন ঠিকানা NCPI, চিনে নিন এই নতুন রাজনৈতিক দলকে

ইস্তফার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে (NCPI Founder) শিউলি জানান, তিনি পেশায় আইনজীবী এবং কলকাতা হাই কোর্টে প্র্যাকটিস করেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। মহিলা ক্ষমতায়ন, অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে সময় দেওয়ার জন্যই তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

NCPI – কে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে, তা নিয়ে কোনও আত্মতুষ্টি নেই বলেই জানান তিনি। তবে দল বড় হয়েছে শুনে তাঁর ভালো লাগছে। “না, আত্মতুষ্টির কিছু নেই। তবে ভালো লাগছে যে দলটা বড় হয়েছে,” বলেন শিউলি।

দলে থাকলে বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও বড় ভূমিকা নিতে পারতেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তাঁর জবাব, “আমি এখনও কাজ করছি। দল গঠনের আগেও কাজ করেছি, দলে থেকেও করেছি, ভবিষ্যতেও করব।”

আবার দলে ফেরার সম্ভাবনাও কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়েছেন, নতুন করে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে ফেরার কোনও ইচ্ছে নেই। তাঁর লক্ষ্য সামাজিক কাজ চালিয়ে যাওয়া।

তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের NCPI এ যোগদান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে (NCPI Founder) শিউলি বলেন, তিনি দল ছাড়ার পরেই এই ঘটনাগুলি ঘটেছে। তাই এ বিষয়ে বিশেষ মন্তব্য করতে চান না। তবে তাঁর বক্তব্য, “যাঁরা এসেছেন, তাঁরা সমস্ত নিয়ম ও আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এসেছেন। ফলে আইনি সমস্যার কোনও কারণ নেই।”

এছাড়া ত্রিপুরা নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত শান্তনু দে সম্পর্কে শিউলি কুণ্ডু দাবি করেন, তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন না। শুধুমাত্র ২০২৩ সালের ত্রিপুরা নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন। পরে সদস্যপদ নবীকরণ না করায় ২০২৩ সালের পর থেকে তাঁর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই।

রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে হঠাৎ করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা NCPI নিয়ে যখন নানা জল্পনা চলছে, তখন দলের প্রতিষ্ঠাতার এই মন্তব্য নতুন করে তাৎপর্য তৈরি করেছে রাজনৈতিক মহলে।

কাকভোরে ঝিলে জাল, রাজ্যে ফের ধরা পড়ল ‘মাছচোর’


Exit mobile version