গড়িয়ায় অরূপ মণ্ডল খুনের রহস্য ক্রমশই ঘনীভূত হচ্ছে। তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এটা কোনও হঠাৎ সংঘর্ষ নয়, বরং মদ্যপানের আসরেই গুলি চালিয়ে খুন করা হয়েছে অরূপ মণ্ডলকে। এই ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। (Garia Murder)
প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, ঘটনার দিন গড়িয়ার একটি বাড়িতে আড্ডার আসর বসেছিল। সেখানে কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। মদ্যপান চলাকালীন আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তারপরই চলে গুলি। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেও স্পষ্ট হয়েছে যে, অরূপ মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে বুলেটের আঘাতে। (Garia Murder)
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে প্রিয়াঙ্কা দাস ও রাজু দাসের নাম। যদিও দু’জনেই নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু পুলিশের দাবি একেবারে ভিন্ন। তদন্তকারীদের অনুমান, ঘটনার দিন প্রিয়াঙ্কাই রাজু দাসকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, প্রিয়াঙ্কা দাস ও রাজু দাস ছিলেন কাকাতো ভাইবোন। রাজু পেশায় অটোচালক। প্রায় তিন বছর আগে প্রিয়াঙ্কার স্বামীর মৃত্যু হয়। তারপর থেকে তিনি শাশুড়ি ও মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছিলেন। একটি জমি বিক্রির সূত্র ধরেই অরূপ মণ্ডলের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার পরিচয় হয় এবং ধীরে ধীরে তা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে পরিণত হয়। (Garia Murder) প্রিয়াঙ্কার দাবি, অরূপ তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৪২ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন। এই আর্থিক লেনদেনই কি খুনের পিছনে আসল কারণ? পুলিশ এই দিকটি খতিয়ে দেখছে।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ইতিমধ্যেই দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, নগদ টাকা এবং একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে। ধৃতদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে। পুলিশ ১৪ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে। গড়িয়ার এই খুনকাণ্ডে আসলে কী ঘটেছিল, তা জানতে এখন সকলের দৃষ্টি তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির দিকে।











