ফের রাজ্যে নিপা ভাইরাস আতঙ্ক। নতুন করে দুজন আক্রান্তের খবর মিলেছে। তাদেরকে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এমনটাই খবর স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে। Nipah Virus
গত ১২ই জানুয়ারি, সোমবার আক্রান্তের খবর মেলে। দুজনেরই জ্বর, মাথা ব্যাথা ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ায় দ্রুত তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তারা বিশেষ পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরকে চিহ্নিত করে নজরদারি শুরু হয়েছে। প্রয়োজনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা সংখ্যাও বাড়ানো হতে পারে বলেই জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
তবে কী এই নিপা ভাইরাস? কীভাবেই বা এর সংক্রমণ হয়? চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন এটি একটি সংক্রামক এবং প্রাণঘাতী ভাইরাস। সাধারণত পশুদের শরীর থেকে মানুষের শরীরে এই ভাইরাস এর সংক্রমণ হয়ে থাকে। বিশেষত বাদুড় বা শূকরের মতো প্রাণীদের থেকেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ হয়ে থাকে। চিকিৎসকরা আরও বলছেন, শীতের সময় অনেকেই কাঁচা খেজুরের রস খেয়ে থাকেন এবং সেটাই এই ভাইরাস সংক্রমনের অন্যতম উৎস হতে পারে। কারণ খেজুর গাছে দীর্ঘদিন ধরে হাঁড়ি বেঁধে রেখে খেজুরের রস সংগ্রহ করা হয়। রাতের বেলা অনেক সময়ই বাদুড় ওই খেজুরের রসের লোভে ওই হাড়িতে মুখ দিয়ে থাকে। পরে ওই কাঁচা খেজুরের রস না ফুটিয়ে সরাসরি পান করলে সেখান থেকে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে। এছাড়া বাদুড় যদি কোন ফলে মুখ দিয়ে থাকে সেরকম ফল কুড়িয়ে বা বাজার থেকে কিনে এনে না ধুয়ে খেলেও এই রোগ ছড়াতে পারে। কাজেই যে কোন ফল খাওয়ার আগে সব সময় ধুয়ে নেওয়া উচিত। বাদুড় বা শূকরের লালা, রক্ত, মল-মূত্র এর সংস্পর্শে এলেও এই ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে।
নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কীভাবে বুঝবেন? চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন জ্বর, মাথা ব্যাথা, বমি বমি ভাব, প্রচন্ড গলা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এগুলিই নিপায় আক্রান্তদের উপসর্গ। সংক্রমিত ব্যক্তির লালা, হাঁচি-কাশির ড্রপলেট থেকেও ছড়াতে পারে এই ভাইরাস।Nipah Virus
ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়েছেন। খবর পেতেই তড়িঘড়ি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে সমস্ত রকম ভাবে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডাও। তবে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে বলা হচ্ছে গুজবে কান না দিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। নিপার উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া উচিত ও সংক্রমিত ব্যক্তির থেকে দূরত্ব বজায় রাখা উচিত।











