দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে শনিবার বিকেলে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভের (Attack on Abhishek Banerjee) ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ তাঁর উদ্দেশে ‘চোর’ স্লোগান দেয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম, জুতো ও ঢিল ছোড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে হেলমেট পরিয়ে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির মধ্যে তাঁর জামা ছিড়ে যায়।
দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েই বিক্ষোভের মুখে অভিষেক
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত দলীয় কর্মী সঞ্জু মিত্রের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে শনিবার বিকেলে রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পথে কামালগাছি এলাকায় তাঁকে কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। যদিও সেই বিক্ষোভ উপেক্ষা করেই তিনি গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যান।
কিন্তু নিহত কর্মীর বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছতেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রবল বিক্ষোভের জেরে তাঁর গাড়ি আটকে যায়। এরপর তিনি গাড়ি থেকে নেমে মোটরবাইকে করে এগোনোর চেষ্টা করেন। (Attack on Abhishek Banerjee) অভিযোগ, সেই সময়েও ভিড়ের মধ্য থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করা হয়।
হেলমেট পরে এগোতে হয়, ছোড়া হয় ডিম-জুতো
পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় নিরাপত্তারক্ষীরা অভিষেককে হেলমেট পরিয়ে দেন। (Attack on Abhishek Banerjee) অভিযোগ, সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম, জুতো, ঢিল ছোড়া হয়। এমনকি ঝাঁটা দিয়েও আক্রমণের চেষ্টা করা হয় বলে দাবি তৃণমূলের। শেষ পর্যন্ত বাইকে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় অভিষেক হেঁটেই নিহত কর্মীর বাড়ির দিকে রওনা দেন। সেই সময় ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির মধ্যে তাঁর জামা ছিঁড়ে যায় বলে অভিযোগ। এরপর তিনি কোনওরকমে সঞ্জু মিত্রের বাড়িতে পৌঁছে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেন।
আরও পড়ুন: বিধানসভার সই বিতর্ক কাণ্ডে তৃণমূলকে কটাক্ষ তাপস রায়ের, ‘তৃণমূল না থাকলে এমন ঘটনাই ঘটত না’
বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ: ‘চোরের বাড়িতে চোর এসেছে’
(Attack on Abhishek Banerjee) অভিষেক বাড়ির ভিতরে থাকাকালীন বাইরে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। বিক্ষোভকারীদের একাংশকে বাড়ির দরজায় ধাক্কা দিতেও দেখা যায়। উপস্থিত কয়েকজন মহিলা বিক্ষোভকারী বলেন, “চোরের বাড়িতে চোর এসেছে। আমরা দিনের পর দিন বাড়ির বাইরে ছিলাম, তখন উনি কোথায় ছিলেন? এখন কেন এসেছেন?”
কিছু বিক্ষোভকারী প্রকাশ্যেই অভিষেককে মারধরের হুঁশিয়ারিও দেন বলে অভিযোগ।
‘আমাকে মেরে দিক, তবু পরিবারকে ফেলে যাব না’— অভিষেক
নিহত কর্মীর বাড়ি থেকেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ উগরে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। (Attack on Abhishek Banerjee) তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা হয়েছে। অভিষেক বলেন, “আমি এই পরিবারের লোকজনকে এই অবস্থায় ফেলে রেখে যেতে পারব না। আমাকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করুক, কিন্তু মহিলাদের উপর যে অত্যাচার হয়েছে তা মেনে নেওয়া যায় না। আমি শুধু আমাদের দলের এক কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। সেটাও করতে দেওয়া হচ্ছে না।”
(Attack on Abhishek Banerjee) তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আগে থেকেই জেলা পুলিশ সুপার, আইসি-সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরকে পরিস্থিতির কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু এত বড় ঘটনার পরও একজন পুলিশ আধিকারিককে দেখা গেল না। আমার কাছে সমস্ত ভিডিও, হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা এবং তথ্যপ্রমাণ রয়েছে।”
ধস্তাধস্তির প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, “মাথাটা বেঁচে গেছে কারণ হেলমেট পরে ছিলাম। আমার জামাকাপড় ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে, চশমা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তারপরও আমি এখান থেকে যাব না। যতক্ষণ না নিরাপত্তা বাহিনী আসে, ততক্ষণ সঞ্জু মিত্রের বাবা-মাকে একা ছেড়ে যাব না।”
রাজনৈতিক আক্রমণও শানিয়ে তিনি বলেন, “তৃণমূল কর্মীরা সিপিএমের ৩৪ বছরের শাসনেও মাথা নত করেনি। বিজেপি যদি ভাবে ভয় দেখিয়ে আমাদের ঘরে ঢুকিয়ে দেবে, তাহলে তারা ভুল ভাবছে।”
আরও পড়ুন: অভিষেকের শান্তিনিকেতনে CID, দরজা খোলা নিয়ে বচসা, তর্কাতর্কি
শুভেন্দুকে নিশানা অভিষেকের
বিক্ষোভ ও হামলার অভিযোগের মধ্যেই বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-কে তীব্র কটাক্ষ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমাকে বাইরে দাঁড়িয়ে চোর বলা হচ্ছে। অথচ বাংলার মানুষ টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছে কে টাকা নিতে গিয়ে ধরা পড়েছে। স্বাধীনতার পর কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে ঘুষ নিতে দেখা যায়নি। একমাত্র বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীকেই সেই অবস্থায় দেখা গিয়েছিল।”
এরপর নাম না করেই শুভেন্দুকে নিশানা করে অভিষেকের দাবি, “যাঁর মাথার উপর এখনও সিবিআই তদন্তের খাঁড়া ঝুলছে, তাঁর দলের লোকেরা আজ নীতিকথা শোনাচ্ছে। যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, তাদের আগে নিজেদের দিকে তাকানো উচিত।”
তৃণমূল সাংসদের আরও অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে ভয় ও হিংসার রাজনীতি করছে বিজেপি। তাঁর কথায়, “আমাদের ধমক দিয়ে, মারধর করে বা হামলা চালিয়ে চুপ করানো যাবে না। আমরা মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব।”
(Attack on Abhishek Banerjee) ঘটনাকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক তরজা
সোনারপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি সমর্থিত বহিরাগতদের মদতেই এই হামলা হয়েছে। যদিও বিরোধী শিবিরের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপাল ও কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় এখনও উত্তেজনা বজায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: জুনের শুরুতেই বাড়ছে বিদ্যুতের বিল, ১০% সারচার্জ ঘোষণা বোর্ডের

