Site icon Hindustan News Point

রাস্তা বেহাল, দুর্ভোগ নিত্যসঙ্গীরং না দেখে উন্নয়নের আশ্বাস বিধায়ক রূপার

Sonarpur Road Condition

শশাঙ্ক মণ্ডল

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলেও রাজপুর-সোনারপুর পুরসভা এলাকার বাসিন্দাদের ভাগ্যবদল হয়নি। রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি আর বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার জেরে বর্ষা নামতেই পুরসভার একাধিক ওয়ার্ডের রাস্তা এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সুভাষগ্রাম স্টেশন থেকে মামণি রেলগেট যাওয়ার রাস্তা সারা বর্ষা জুড়েই হাঁটু জলে ডুবে থাকে। মিলনপল্লি, নতুন পল্লি, অবাক জলপান থেকে মথুরাপুর যাওয়ার রাস্তার অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। (Sonarpur Road Condition)

বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের দিন দশেক আগে তড়িঘড়ি ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের অধীনে পেভার ব্লক বসানোর কাজ শুরু হয়েছিল। তার জন্য রাস্তার দু’ধারে ১০ ইঞ্চি চওড়া ঢালাই করা হয়। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে বিজেপি সরকার গঠন করার পর সেই কাজ মাঝপথেই থমকে যায়। এখন রাস্তার দু’ধারে উঁচু ঢালাই থাকার কারণে বৃষ্টির জল বেরোতে পারছে না, ফলে নিচু রাস্তাগুলো ডোবায় পরিণত হচ্ছে। এলাকায় জল নিকাশির কোনও সুনির্দিষ্ট ড্রেনেজ সিস্টেম নেই। (Sonarpur Road Condition)

এই চরম দুর্ভোগের শিকার স্থানীয় স্কুলপড়ুয়া থেকে শুরু করে প্রসূতিরা। মিলনপল্লির বাসিন্দা সন্তানসম্ভবা সুপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রতি মাসে তাঁকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য সোনারপুর গ্রামীণ হাসপাতালে যেতে হয়। কিন্তু রাস্তা জলমগ্ন থাকায় রিকশাও যেতে চায় না, হেঁটে যাওয়ার পরিস্থিতিও থাকে না। অন্যদিকে, রিতা মণ্ডল নামে এক স্কুলপড়ুয়া জানায়, জল জমে প্রতিদিন স্কুলের পোশাক ভিজে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে রেললাইনের ওপর দিয়ে যাতায়াত করছে। অফিসযাত্রী সুমনা মণ্ডলের কথায়, “রেললাইন দিয়ে হাঁটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু আমাদের আর কোনও উপায় নেই।” প্রবীণ বাসিন্দা দুর্গাচরণ দাস আক্ষেপ করে বলেন, “বয়স হয়েছে, অসুস্থ হলে হাসপাতালে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই এই রাস্তায়। নতুন সরকারের উচিত দ্রুত কাজ শুরু করা।” (Sonarpur Road Condition)

এদিকে এই নরকযন্ত্রণাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। পুরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডেই এখনও তৃণমূলের কাউন্সিলররা রয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কাউন্সিলর ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানিয়েছেন, “আমাদের শুধু নামেই পদে বসিয়ে রাখা হয়েছে, কোনও কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এভাবে বোর্ড চালানোর চেয়ে ভেঙে দেওয়াই ভালো।” (Sonarpur Road Condition)

পাল্টা সুর চড়িয়ে বিজেপি নেতা সুকান্ত সাহা অভিযোগ করেছেন, “তৃণমূলের কাউন্সিলররা ইচ্ছাকৃতভাবে কাজ বন্ধ রেখে নতুন বিজেপি সরকারকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছেন। পুরপিতারা ঘরে বসে আছেন কেন? আসলে তৃণমূল নেতারা এলাকার জল বেরোনোর রাস্তা ও খালের ওপর অবৈধ নির্মাণ করে প্লট বানিয়ে বিক্রি করে দিয়েছেন। কোনও প্ল্যানিং ছাড়াই ড্রেনেজ সিস্টেম করার ফলেই আজ মানুষের এই করুণ দশা।” যদিও এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেতা সোমনাথ ঘোষ। তাঁর দাবি, “আমরা কোনও অবৈধ নির্মাণ বা খাল বুজিয়ে দোকান করিনি। এলাকার নতুন বিজেপি বিধায়কের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, দ্রুত রাস্তার কাজ শুরু হবে।”

এলাকার এই বেহাল দশা নিয়ে সরব হয়েছেন বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ও। তিনি জানান, সোনারপুর দক্ষিণে অম্রুত ও পথশ্রী প্রকল্পের প্রায় ১৬১টি রাস্তা ভেঙে পড়ে রয়েছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “কোটি কোটি টাকার কাজের কোনও হিসেব নেই। এক ইঞ্চি পিচ দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল বলেই এত দ্রুত তা নষ্ট হয়ে গেল। পূর্বতন সরকারের পাঁচ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা এবং এই বিপুল আর্থিক গরমিল সামলাতে আমাদের কিছুটা সময় লাগছে। তবে যিনি বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন আর যিনি দেননি—উভয়ের জন্যই আমরা সমান পরিশ্রম করব এবং খুব দ্রুত এই রাস্তাগুলো নতুন করে তৈরি করে দেওয়া হবে।” (Sonarpur Road Condition)

আরও পড়ুন :- রথমেলার প্রাণ ছিল ‘ঘাড় নড়া দাদু’, এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই কাঁকসার মৃৎশিল্পীদের


Exit mobile version