আর জি কর হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ডাক্তার সন্দীপ ঘোষ-এর বাড়ির বেআইনি নির্মাণ ঘিরে বড় পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুরসভা। পুরসভা সূত্রে খবর, বেলেঘাটার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৮৩ নম্বর বদন রায় লেনের বাড়িতে ছাদের উপর তৈরি হওয়া একটি বেআইনি ‘পারগোলা’ আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন পুরসভার স্পেশাল অফিসার (বিল্ডিং) এস বোরাল। ওই সম্পত্তির মালিকানা রয়েছে সন্দীপ ঘোষ ও তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা ঘোষ-এর নামে। (Sandip Ghosh)
জানা গিয়েছে, অংশুমান সরকার নামে এক ব্যক্তি বাড়িটির বিরুদ্ধে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শুরু হয় মামলার শুনানি। গত ১৪ মে, ২০২৬-এ শুনানি শেষে পুরসভার তরফে এই নির্দেশ জারি করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, ছাদের উপর প্রায় ৫.৪২৫ বর্গমিটার জায়গা জুড়ে এবং প্রায় ২.০৫ মিটার উচ্চতার একটি নতুন পারগোলা তৈরি করা হয়েছিল, যা অনুমোদিত নকশায় ছিল না। পাশাপাশি লিফটের মেশিন রুমে ওঠার জন্য একটি লোহার স্পাইরাল সিঁড়িও বসানো হয়েছিল। এছাড়া দ্বিতীয় তলে একটি দরজার অংশ ইটের দেওয়াল তুলে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে। (Sandip Ghosh)
পুরসভার রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই নির্মাণগুলি কলকাতা পুরসভার ২০০৯ সালের বিল্ডিং আইনের ১৩৩ ও ১৩৪ নম্বর ধারার নিয়ম ভঙ্গ করেছে। বিশেষ করে কাঠামোর গুণমান ও অনুমোদিত নকশা বহির্ভূত পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে। (Sandip Ghosh)
শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন অভিযোগকারী ও সন্দীপ ঘোষ—উভয় পক্ষই। অভিযোগকারী স্পষ্টভাবে দাবি জানান, বেআইনি পারগোলাটি যেন কোনওভাবেই বহাল না রাখা হয়। অন্যদিকে সন্দীপ ঘোষ স্বীকার করে নেন যে ওই কাঠামোটি বাড়ির ‘কমপ্লিশন প্ল্যান’-এ ছিল না। তিনি পুরসভাকে জানান, বাড়ির সংস্কারের কাজ চলাকালীন আগামী দু’মাসের মধ্যে নিজেই সেটি সরিয়ে ফেলবেন। (Sandip Ghosh)
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর স্পেশাল অফিসার নির্দেশ দেন, আদেশ পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে ছাদের বেআইনি অংশ সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলতে হবে। তবে এই নির্দেশের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ‘মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং ট্রাইব্যুনাল’-এ আপিল করার সুযোগও থাকছে বলে জানিয়েছে পুরসভা।
কলকাতা পুরসভা নিয়ে তৃণমূলে তোলপাড়, কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকে ডাকলেন মমতা

