ডায়মন্ড হারবারের ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্যশিবিরে গিয়ে নিজের পরিচয় স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “আমি তোমাদেরই লোক, আর কিছু নয়— এই হোক শেষ পরিচয়।” সামনেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন, তার আগে জনসংযোগ ও পরিষেবা—দুইয়ের সমন্বয়ে তৃণমূলের এই উদ্যোগ এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চর্চার কেন্দ্রে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা এলাকায় একের পর এক ‘সেবাশ্রয়’ শিবির শেষ করে এখন চলছে ডায়মন্ড হারবারের মডেল ক্যাম্প। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে। মঙ্গলবার সেখানে হাজির হন রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি গোটা দোতলা শিবির ঘুরে দেখেন, রোগী ও তাঁদের পরিজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিজেও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।
এই শিবিরের পরিকাঠামো কার্যত নজিরবিহীন। ডায়মন্ড হারবারের এসডিও মাঠে প্রথমবার তৈরি হয়েছে দোতলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, যেখানে রয়েছে সম্পূর্ণ আইসিইউ সুবিধাও। মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন জন রোগী ওই আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বিনামূল্যে ওষুধ, ডায়াগনস্টিক টেস্ট, রেফারেল পরিষেবা, হেল্প ডেস্ক, এমনকি অ্যাপ-ভিত্তিক রেজিস্ট্রেশন ও রিয়েল-টাইম আপডেট—সব মিলিয়ে এই ক্যাম্পকে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে তুলনা করছেন অনেকেই।

শিবিরের সূচনালগ্নেই বিশেষ ভাবে সক্ষম বহু মানুষকে ট্রাইসাইকেল তুলে দেওয়া হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। শুধু ডায়মন্ড হারবারেই সীমাবদ্ধ নেই এই উদ্যোগ। লোকসভা কেন্দ্রের গণ্ডি পেরিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামেও পৌঁছেছে ‘সেবাশ্রয়’। নন্দীগ্রাম ১ ও ২ নম্বর ব্লকে ইতিমধ্যেই মডেল ক্যাম্পের উদ্বোধন হয়েছে।
তবে বিপুল ব্যয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর জবাবে অভিষেক স্পষ্ট জানিয়েছেন, আদালত বা কেন্দ্রীয় সংস্থা চাইলে তিনি হিসাব দিতে প্রস্তুত, কিন্তু বিরোধী দলনেতার সেই অধিকার নেই। সব মিলিয়ে, পরিষেবার পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও ডায়মন্ড হারবারের ‘সেবাশ্রয়’ এখন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে।











