একটাও বিক্ষিপ্ত ঘটনাও ঘটল না। ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী’-র মধ্যস্থতায় সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে শেষ হল নির্বাচন। না। এটি কোনও ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত বা বিধানসভা ভোট নয়।স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সংসদ গঠনের ভোট। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকের উত্তরাবাদ অবৈতনিক প্রাথমিক স্কুলের ভোট। ‘কমিশনের’ নিয়ম মেনে চলল শিশু সংসদের নির্বাচন। (School Student Council Election)
ভোটের দিন সকাল থেকেই বুথের সামনে লম্বা লাইন। স্কুলের গেটে লাইনে দাঁড়ায় ভোটার পড়ুয়ারা। প্রত্যেকের হাতেই ছিল স্কুলের পরিচয়পত্র। শৃঙ্খলারক্ষা ও ‘নিরাপত্তার’ জন্য মোতায়ন ছিল ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী’ ও ‘পুলিশ’। হাতে প্লাস্টিকের ‘মেশিনগান’ নিয়ে সেই দায়িত্বও সামলেছে পড়ুয়ারাই। (School Student Council Election)
পরিচয়পত্র দেখিয়ে বুথে প্রবেশ ভোটারদের। মোট ১২ জন প্রার্থী রয়েছে। ভোটকক্ষে ১২ জন প্রার্থীর জন্য এজেন্টও রয়েছে। ভোটাদের তালিকা নিয়ে বেঞ্চে বসে ভুয়ো ভোটার সম্পর্কে নজর রাখেছে এজেন্টরা। ভোট পরিচালনায় বুথে উপস্থিত ‘প্রিসাইডিং’ ও ‘পোলিং অফিসার’। পড়ুয়ারা বুথে ঢুকতেই নাম যাচাই করে কালি দিয়ে টিক চিহ্ন দিচ্ছে ভোটকর্মী। আঙুলে কালি লাগিয়ে ব্যালট পেপার তুলে দেওয়া হয় ভোটারদের হাতে। তিন দিক ঘেরা টেবিলের গিয়ে গোপন ব্যালটে প্রার্থী নির্বাচন করে ব্যালট বাক্সে ফেলছে ভোটাররা।(School Student Council Election)
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, ১২ জন প্রার্থীর জন্য দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ভোটার ৩১২ জন। ভোট পড়েছে ২৬৩ টি। নির্বাচন শেষে প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে ভোট গণনা হয়। গণনায় সর্বোচ্চ ২০২ ভোট পেয়ে ‘প্রধানমন্ত্রী’ নির্বাচিত হয়েছে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী আরমিনা খাতুন। (School Student Council Election)
স্কুলের প্রধান শিক্ষক অজয় জানা বলেন, ছোটবেলা থেকেই গণতন্ত্রের চর্চা শুরু হলে ভবিষ্যতে পড়ুয়ারা দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে উঠবে। তাই সাধারণ নির্বাচনের আদলে এই শিশু সংসদের ভোট আয়োজন করা হয়েছে। পড়াশুনোর পাশাপাশি স্কুলের এমন আয়োজন দেখে চমকে গিয়েছেন অভিভাবক থেকে স্থানীয় বাসিন্দারাও।(School Student Council Election)










