মেলায় বাইক পার্কিংকে কেন্দ্র করে বচসা, তার পরেই সংঘর্ষ। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ পরগনার রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার অন্তর্গত দোলতলা এলাকায়। দু’পক্ষের মারামারিতে অন্তত পাঁচ থেকে ছয় জন আহত হয়েছেন। মহিলাদের হেনস্থার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। (Bike Parking Dispute)
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দোলতলায় প্রতিবছরের মতো এ বারও দোল উপলক্ষ্যে মেলা বসেছে। মেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষের ভিড় জমে। অভিযোগ, সেই সময় পাড়ারই এক যুবক বাইক নিয়ে এলাকায় ঢুকতে গেলে তাঁকে বাইক নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার কথা বলা হয় এবং পার্কিং বাবদ টাকা চাওয়া হয়। ওই যুবকের দাবি ছিল, তাঁর বাড়ি ওই এলাকাতেই, তাই বাইক নিয়ে ঢুকতে আপত্তির কারণ নেই। এই নিয়েই প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, দোলের আবহে উত্তেজনা বাড়তে বেশি সময় লাগেনি। (Bike Parking Dispute)
প্রথমে বচসা, তার পর ধাক্কাধাক্কি এবং শেষে হাতাহাতি। অভিযোগ, দু’পক্ষই রড, লাঠি, বাঁশ ও ইট-কাঠ নিয়ে একে অন্যের উপর হামলা চালায়। ঘটনায় সঞ্জয় সাউ-সহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন সঞ্জয় সাউ, সোমা ঘোষ, দেবাশীষ দাস ও ঋতুপর্ণা ঘোষ। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা হয়েছে। (Bike Parking Dispute)
আক্রান্ত সোমা ঘোষের দাবি, তিনি মারামারি থামাতে গিয়ে নিজেই আক্রান্ত হন। তাঁর অভিযোগ, “ছেলেদের ঝগড়া থামাতে গিয়েছিলাম। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়ে যাই। আমাকেও মারধর করা হয়েছে। সকাল থেকে শরীর খারাপ লাগছে।” অন্য দিকে ঋতুপর্ণা ঘোষের বক্তব্য, প্রথম দফায় ঝামেলা মিটে গেলেও পরে আবার একদল যুবক দল বেঁধে এসে হামলা চালায়। তাঁর কথায়, “মেয়ে, বউ, বাচ্চা কাউকে রেয়াত করেনি। এলোপাথারি মারধর করেছে।” (Bike Parking Dispute)
মুন্না জাকির মণ্ডল-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। মুন্না জাকির মণ্ডল একাধিক নেতার ঘনিষ্ঠ। তৃণমূলের একাধিক নেতার সঙ্গে তাঁর ছবিও রয়েছে। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য এখনও জানা যায়নি। দু’পক্ষই সোনারপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। (Bike Parking Dispute)









