বিরোধী বিধায়কদের কক্ষ বরাদ্দ থেকে শুরু করে পিএসসি দুর্নীতি, সন্দেশখালি মামলা এবং অবৈধ নির্মাণ একাধিক ইস্যুতে মঙ্গলবার সরব হলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিধানসভায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মন্তব্য করেন তিনি। এদিন কবির প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন অধ্যক্ষ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মানিকতলার বিধায়ক তাপস রায় এবং বিধানসভার সচিব সমরেন্দ্রনাথ দাস। (West Bengal News)
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিরোধী দলের বিধায়কদের জন্য বরাদ্দ ঘর নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গে কথা বলেন অধ্যক্ষ। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান বিরোধী শিবিরে থাকা বিধায়করা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতা। তাই তাঁদের মর্যাদা বজায় রেখে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো-সহ কক্ষ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন, বিরোধী দলে থাকাকালীন বিজেপি বিধায়কদের নানা অসুবিধার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বর্তমান বিরোধীদের ক্ষেত্রে যাতে একই পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক বিধানসভা কর্তৃপক্ষ। (West Bengal News)
আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির জন্য আলাদা কক্ষ বরাদ্দের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। জবাবে অধ্যক্ষ জানান, নওশাদ সিদ্দিকি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানান, তাহলে বিধানসভা কর্তৃপক্ষ তা বিবেচনা করে দেখবে। তিনি জানান, বিরোধী দলকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থারই অংশ। (West Bengal News)
এদিন আসন্ন বিধানসভা বাজেট অধিবেশন নিয়েও বিস্তারিত মন্তব্য করেন রথীন্দ্রনাথ বসু। তাঁর কথায়, অধিবেশন পরিচালনায় শৃঙ্খলা ও সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখাই প্রধান লক্ষ্য। সাধারণ মানুষ যাঁদের ভোট দিয়ে বিধানসভায় পাঠিয়েছেন, তাঁদের প্রতিনিধিরা কীভাবে মানুষের সমস্যা, দাবি ও স্বার্থের কথা তুলে ধরছেন, তা যেন পরিষ্কারভাবে মানুষের সামনে আসে, সেই বিষয়েও জোর দেন তিনি। অধ্যক্ষের দাবি, বিধানসভা শুধুমাত্র রাজনৈতিক সংঘাতের জায়গা নয়, মানুষের স্বার্থ রক্ষার গণতান্ত্রিক মঞ্চ।
রাজ্যের পিএসসি নিয়োগ দুর্নীতি ইস্যুতেও তীব্র সুরে আক্রমণ শানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, বহু যোগ্য ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক ন্যায্য নম্বর না পেয়ে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন অনেক ব্যক্তিকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে যাঁদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অধ্যক্ষের কথায়, “যদি সিরিয়ালের অভিনেতা বা রাজনৈতিক পরিচয় থাকা ব্যক্তিরাই যোগ্যতার মাপকাঠি হন, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” তিনি ইঙ্গিত দেন, বিষয়টি বিধানসভাতেও উত্থাপন করা হতে পারে। (West Bengal News)
দুর্নীতি প্রসঙ্গে আরও কড়া অবস্থান নেন অধ্যক্ষ। তাঁর বক্তব্য, মানুষের করের টাকা আত্মসাৎ করে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধি করেছেন যাঁরা, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রশাসনিক অভিযান চলবেই। তিনি বলেন, সরকারি অর্থ মানেই মানুষের অর্থ, তাই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্তদের রেহাই দেওয়া উচিত নয়।
সন্দেশখালি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত শেখ শাহজাহানকে নিয়েও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। তাঁর অভিযোগ, অতীতে প্রশাসনের একাংশ তাঁকে আড়াল করার চেষ্টা করেছিল। এবার সেই পরিস্থিতি আর হবে না বলেও দাবি করেন তিনি। (West Bengal News)
একই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অনুমোদন ছাড়া তৈরি হওয়া হাইমাস্ট, ব্রিজ ও মূর্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অধ্যক্ষ। তাঁর অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই পিডব্লিউডির অনুমোদন ছাড়াই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই ধরনের নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি মনে করেন, অবিলম্বে পিডব্লিউডি ইঞ্জিনিয়ারদের দিয়ে এই সব নির্মাণ পরীক্ষা করানো উচিত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
ফুটপাত উচ্ছেদ হাওড়ার মঙ্গলাহাটে, ক্ষোভে ফুঁসছেন ব্যবসায়ীরা, হাটের সময় বেঁধে দেওয়ার আর্জি

