হাওড়ার ঐতিহ্যবাহী মঙ্গলাহাট। হাটে কেনাবেচার জন্য রাত থাকতেই হাজির হন ক্রেতা বিক্রেতারা। কিন্তু ফুটপাত দখল করে ব্যবসা বন্ধের প্রশাসনিক নির্দেশ ঘিরে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে সেখানকার ব্যবসায়ী মহলে। সোমবার প্রশাসনের তরফে মাইকে ঘোষণা হয়, মঙ্গলবার থেকে হাটের দিনে আর ফুটপাতে কোনও হকার বসতে পারবেন না। এরপর সোমবার রাত থেকেই পুলিশ হাট চত্বরে নজরদারি শুরু করে। বহু ব্যবসায়ীকে ফুটপাতে বসতে বাধা দেয়। এই সিদ্ধান্তের জেরে কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পাইকারি ক্রেতা এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা হকাররা। (Howrah Market)
দীর্ঘদিন ধরেই হাওড়ার মঙ্গলাহাট, পূর্ব ভারতের অন্যতম বড় পাইকারি পোশাক বাজার হিসেবে পরিচিত। প্রতি সপ্তাহে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও উড়িষ্যা, ঝাড়খণ্ড ও বিহার থেকে বহু ব্যবসায়ী এখানে আসেন মাল কিনতে। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে হাটে এসে বহু ব্যবসায়ী দেখেন, অধিকাংশ ফুটপাত খালি, দোকানদারদের বসতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে অনেকেই মাল না কিনেই ফিরে যাওয়ার পরিস্থিতিতে পড়েন। (Howrah Market)
উড়িষ্যার জলেশ্বর থেকে আসা এক ব্যবসায়ী জানান, প্রতি সপ্তাহেই তিনি মঙ্গলাহাটে এসে কাপড় কিনে নিয়ে যান এবং নিজের এলাকায় বিক্রি করেন। কিন্তু এদিন এসে তিনি দেখেন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। তাঁর কথায়, “আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। হঠাৎ এসে দেখি কাউকে বসতে দিচ্ছে না। এখন কী করব বুঝতে পারছি না। যদি নির্দিষ্ট একটা সময় বেঁধে দেওয়া হত, তাহলে অন্তত ব্যবসাটা করা যেত।” (Howrah Market)
একইরকম সমস্যায় কাটোয়ার ননী গোপাল দেবনাথ। প্রায় ১৪৪ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে তিনি প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলাহাটে আসেন। তাঁর বক্তব্য, “সাত দিনে একদিন এই হাট বসে। এখান থেকে মাল কিনে সারা সপ্তাহ ব্যবসা করি। আজ একটা মালও কিনতে পারলাম না। পুরো সপ্তাহটাই এখন অনিশ্চিত হয়ে গেল।” তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবর্তন হওয়াকে তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন, কিন্তু “ফুটপাতের মানুষের পেটে লাথি মেরে পরিবর্তন” তাঁরা চাননি। (Howrah Market)
হকারদের অভিযোগ, বহু বছর ধরে তাঁরা এখানে ব্যবসা করছেন। কেউ ৫ বছর, কেউ ১০ বছর ধরে একইভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন। হঠাৎ করে উচ্ছেদের সিদ্ধান্তে তাঁদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। মহাম্মদ ফরিদ মল্লিক নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমাদের বউ-ছেলে আছে, সংসার আছে। এই ব্যবসা ছাড়া আর কোনও কাজ জানি না। যদি বসতেই না দেয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব?” তাঁর দাবি, প্রশাসন চাইলে রাতের নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিতে পারে। “রাত ১০টা বা ১১টা থেকে সকাল ৫টা-৬টা পর্যন্ত বসতে দিলে রাস্তাঘাটেও সমস্যা হবে না, আবার আমাদেরও ব্যবসা চলবে,” বলেন তিনি। (Howrah Market)
একাধিক ব্যবসায়ী জানান, আগে প্রতি সপ্তাহে ৫০ টাকা করে তোলা নেওয়া হত। তাঁদের অভিযোগ, কিছু দালাল সেই টাকা তুলত এবং বাজার দেখভালের নামে আদায় করত। যদিও ভোট পর্বের পর থেকে সেই টাকা নেওয়া বন্ধ হয়ে যায় বলেও দাবি তাঁদের।বাপ্পা লস্কর নামে আর এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা তো রাত জেগে পরিশ্রম করি। সকাল হওয়ার আগেই উঠে যাই। সারাদিন রাস্তা দখল করে বসে থাকি না। সময় কমিয়ে দিলেও আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু একেবারে তুলে দিলে আমরা পরিবার নিয়ে পথে বসব।” (Howrah Market)
ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, প্রশাসনের উচিত ছিল আগে আলোচনা করা। তাঁদের বক্তব্য, মঙ্গলাহাটের সঙ্গে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে—শুধু হকার নন, পাইকার, শ্রমিক, পরিবহণ কর্মী, এমনকি দূরদূরান্তের ছোট দোকানদাররাও এর উপর নির্ভরশীল। তাই হঠাৎ করে কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সমস্যার সমাধানের আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। (Howrah Market)
এদিকে প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে মঙ্গলাহাট ঘিরে এই পরিস্থিতি আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের আকার নিতে পারে বলেই মনে করছে ব্যবসায়ী মহল।
বেলেঘাটা থেকে কসবা কলকাতায় একের পর এক বেআইনি নির্মাণে বুলডোজার










1 thought on “ফুটপাত উচ্ছেদ হাওড়ার মঙ্গলাহাটে, ক্ষোভে ফুঁসছেন ব্যবসায়ীরা, হাটের সময় বেঁধে দেওয়ার আর্জি”