Site icon Hindustan News Point

তারাতলা দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬, আশঙ্কাজনক অবস্থায় একাধিক আহত

Taratala Incident

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ার ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা ১৯। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। শনিবার সকালে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, বুধবার দুপুরে তারাতলার বেস ব্রিজের কাছে নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ ধসে পড়ায় ধ্বংসস্তূপ এর নিচে আটকে পড়েন একাধিক শ্রমিক। তারপর থেকেই সেনা, NDRF, দমকল, পুলিশ এবং সিভিল ডিফেন্সের যৌথ উদ্যোগে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধারের কাজে হাত লাগিয়েছে ভারতীয় রেলও। লোহার ভারী বিম কেটে এবং বিশাল কংক্রিটের স্ল্যাব সরিয়ে ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়াদের খোঁজ চলছে। মোতায়েন করা হয়েছে স্নিপার ডগও। তবে সময় যত বাড়ছে ততই লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। (Taratala Incident)

শুক্রবার দুপুরে এসএসকেএম হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন খালেক সরকারের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটজনক ছিল। তাঁর মৃত্যুর পরই এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬।

মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই সরকারের তরফে ১২ জন মৃতের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন কৃষ্ণা চৌধুরী (৪৯), রোহিত চৌধুরী (২০), চন্দ্রমা চৌধুরী (৬০), রাহুল চৌধুরী (১৭), পপ্পু কুমার রজক (৪০), ঘি কুমার (১৭), আসগর হুসেন (৫৪), সাহিল সর্দার (১৭), হাসান ইমাম (৪৪), গণেশ কালিন্দী (৪৫), নবীন সিং (৪৪) এবং স্বপন মণ্ডল। (Taratala Incident)

দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। ইতিমধ্যেই প্রাক্তন মেয়রের প্রাক্তন OSD কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লিজ-হোল্ডার সংস্থার কর্তাদের গ্রেফতার করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। শুক্রবার তাঁদের আলিপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক ৪ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

এদিকে, গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে দোষারোপের পালা ক্রমশ বাড়ছে। এই বিপর্যয়ের জন্য পূর্বের তৃণমূল সরকারকেই দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সরাসরি প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে নিশানা করে বিধানসভায় বলেন, “বিল্ডিং প্ল্যানে ত্রুটি ছিল। আর সেই প্ল্যানে প্রাক্তন মেয়রের সই রয়েছে। কাউকে ছাড়া হবে না।” যদিও সেই দায় এড়াতে প্ল্যান পাশের ক্ষেত্রে মেয়রদের কোনও এক্তিয়ার থাকে না বলেই দাবি করেছেন ফিরহাদ হাকিম। এখন ঘটনার জল কোন দিকে গড়ায় সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর। (Taratala Incident)

আরও পড়ুন: ঘটনায় জড়িতদের রেহাই নয়, তারাতলা বিপর্যয়ে ফিরহাদের গ্রেফতারির দাবি কুণালের


Exit mobile version