তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় ইতিমধ্যে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। কার বা কাদের গাফিলতিতে এই ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে খতিয়ে দেখছে রাজ্যে সরকার। যারা এই ঘটনার পিছনে রয়েছেন তাদের কাউকে ছেড়ে কথা বলা হবেনা বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে ঘটনা প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দিকেও অভিযোগের তির ছুঁড়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার সেই বিষয়েই সুর চড়াতে দেখা গেল কুণাল ঘোষকে (Kunal Ghosh)। যে বা যারা ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করা হোক, দাবি কুণালের।
এদিন বিধানসভায় সাংবাদিক বৈঠকে মদন মিত্রের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মমতাপন্থী তৃণমূলের অন্যতম সদস্য কুণাল ঘোষও (Kunal Ghosh)। বুধবার তারাতলায় ঘটে যাওয়া বিপর্যয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। অনেক মানুষের প্রাণ গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন তাঁকে সমর্থন করে কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন বলে দাবি করা হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সঠিক প্রমাণ থাকলে অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করা হোক। অবৈধ নির্মাণ বা বেআইনি প্ল্যান পাশের মতো যে সব অভিযোগ উঠছে সেগুলোকে আরো খতিয়ে দেখতে হবে। তবে একইসঙ্গে তিনি এও বলেন, এই ঘটনায় শুধুমাত্র সামনের সারির কয়েকজনকেই গ্রেফতার করা হবে এবং পিছনে থাকা লোকেরা বেঁচে যাবে এমনটা যেন না হয়।
এদিন নাম না করেই ফিরহাদ হাকিমকে উদ্দেশ্য করে কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় যে কাগজ দেখিয়ে প্রাক্তন মেয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন সেই অভিযোগের ভিত্তিতে যদি সঠিক প্রমাণ থাকে তাহলে তিনি দায় এড়াতে পারেন না। যদি সত্যিই তিনি দায়ী হন তাহলে অবিলম্বে তাঁকে গ্রেফতার করা হোক। শুধু মাত্র এখন নতুন তৃণমূলের সদস্য হয়েছেন বলে তাদেরকে রেয়াত করলে চলবে না। তিনি আরও বলেন, যারা তৃণমূল থেকে বেরিয়ে গিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের সদস্য হয়েছেন তারা তাদের নিজস্ব দুর্নীতি থাকার জন্যই সেই কাজ করেছেন। এই কথা তিনি মুখ্যমন্ত্রীকেও জানিয়েছেন। আজও তাঁর একই দাবি, যে বা যারা নতুন তৃণমূলে গিয়ে ‘ধোয়া তুলসীপাতা’ সাজার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ থাকে তাহলে যেন তাদের ছাড় না দেওয়া হয়।
বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনে মেয়রের কোনও এক্তিয়ার নেই, তারাতলা বিপর্যয়ে দায় ঝাড়লেন ফিরহাদ
তবে ফিরহাদ হাকিম প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, যদিও সব সময় মেয়রের চেয়ারে থাকলেই যে সমস্ত কাগজ খতিয়ে দেখা যায় তা নয়। কিছু বিষয়ে রুটিন সই করতেই হয়। তবে এরকম একটি বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে যদি তিনি সত্যিই জড়িয়ে থাকেন তবে তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পরেই মমতার তৃণমূলে যে ভাঙন শুরু হয়েছিল সেই পর্বেই অন্য অনেক তৃণমূল নেতাদের মতোই নেত্রীর হাত ছেড়েছিলেন ফিরহাদ হাকিমও। কলকাতা পুরসভার মেয়রের পর থেকেও কিছুদিন আগেই সরে দাঁড়িয়েছেন ববি। এখন তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের নবনির্মিত তৃণমূলের অংশ। এই আবহে তারাতলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কলকাতার প্রাক্তন মেয়রের বিরুদ্ধে মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও এই ঘটনায় বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন ফিরহাদ হাকিম। এবার সেই বিষয়েই মন্তব্য করে নিজের মতামত জানালেন কুণাল ঘোষও। দোষ থাকলে দায় এড়ানো যাবে না, এমনটাই দাবি তাঁর।










2 thoughts on “ঘটনায় জড়িতদের রেহাই নয়, তারাতলা বিপর্যয়ে ফিরহাদের গ্রেফতারির দাবি কুণালের”