বুধবার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ধসে পড়ার ঘটনায় ইতিমধ্যে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। বিধানসভায় এই ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগের তির ছুড়েছিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়রের দিকেই। সেই প্রেক্ষিতেই বৃহস্পতিবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)।
ফিরহাদ দাবি করেছেন, কোনও নির্মাণের নকশা বা বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে মেয়রের কোনও ভূমিকা বা এক্তিয়ার থাকে না। তাঁর কথায়, শুধু তাঁর ক্ষেত্রেই নয়, কোনও মেয়রেরই এই ক্ষমতা নেই। নির্মাণ সংক্রান্ত নকশা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেয় কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট। এ বিষয়ে মেয়রের আলাদা করে কিছু করার সুযোগ থাকে না।
তারাতলায় ভেঙে পড়া নির্মীয়মাণ গোডাউনের নকশা সংক্রান্ত যে নথিতে ফিরহাদের (Firhad Hakim) স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, সেটি বিধানসভায় তুলে ধরেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, এই ঘটনায় যাঁরা জড়িত, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। শুধু জেল নয়, প্রয়োজনে নতুন আইন এনে অভিযুক্তদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের জবাবে ফিরহাদ জানান, তারাতলার গোডাউনের ওই নির্দিষ্ট প্ল্যান সম্পর্কে তাঁর কোনও ধারণা নেই। তাঁর বক্তব্য, “এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। দুর্ভাগ্যবশত আমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়িনি। আর কোনও প্ল্যান আমার কাছে আসারও কথা নয়। ওটা শুধু ফর্ম্যালিটিস। মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কমিটি বা এমবিসি-তে প্রযুক্তিগত বিষয়ে দক্ষ ব্যক্তিরা থাকেন। সেখান থেকে কমিশনার হয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আমার কাছে আসত।”
তবে একইসঙ্গে তারাতলার দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে রাজ্য সরকারের ভূমিকার প্রশংসাও করেছেন ফিরহাদ। তিনি বলেন, উদ্ধারকাজ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে এবং সে জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, তারাতলা এলাকা ফিরহাদ হাকিমেরই (Firhad Hakim) বিধানসভা কেন্দ্র কলকাতা বন্দরের অন্তর্গত। গতকাল দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন বলেও জানান। তবে পুলিশি নিরাপত্তার কারণে তাঁকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তবে এরপর এসএসকেএম হাসপাতালে যান তিনি।










2 thoughts on “বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনে মেয়রের কোনও এক্তিয়ার নেই, তারাতলা বিপর্যয়ে দায় ঝাড়লেন ফিরহাদ”