দিনে দুপুরে পঞ্চায়েত থেকে ফাইল চুরি। এমন ঘটনাই ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার অন্তর্গত তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সাউথ গড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সবার অগোচরে গ্রাম পঞ্চায়েতের কিছু অস্থায়ী কর্মচারীদের সহায়তায় পঞ্চায়েতের গোডাউনের ট্রাঙ্ক থেকে ফাইল সরিয়ে ফেলা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এলাকার বিজেপির কর্মী সমর্থকরা খবর পেয়ে গিয়ে সেই সমস্ত ট্রাঙ্ক বোঝাই ফাইল আটকে ফেলে। খবর দেওয়া হয় বারুইপুর থানায়। পুলিশ পৌঁছে যায় সাউথ গড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে। কেন সেই সমস্ত সরকারি নথিপত্র ট্রাঙ্ক থেকে বের করে নিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়া হচ্ছিল সে বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। (Baruipur Incident)
বিজেপির অভিযোগ যে, তৃণমূল সরকারে থাকাকালীন এতদিনের দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই পঞ্চায়েত থেকে সরকারি নথিপত্র ট্রাঙ্ক থেকে বের করে নিয়ে চলে যাওয়া হচ্ছিল। ঘটনার উপযুক্ত তদন্ত দাবি করা হয়েছে বিজেপির পক্ষ থেকে। এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি যুব মোর্চা নেতা সঞ্জু নস্কর জানান, তিনি আজ দুপুর ১২ টা নাগাদ পঞ্চায়েতে এসে দেখেন সেখানে গোডাউন খুলে কিছু ফাইলপত্র লোপাট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে তিনি সেই সম্পর্কে জানতে চান কিন্তু তারা কোনও স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। তাঁর অনুমান তৃণমূলের এতদিনের দুর্নীতির সমস্ত তথ্য ফাঁস করার জন্য এই তথ্য চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
এই বিষয়ে বিজেপি যুব মোর্চা নেতা পৃথ্বীশ সর্দার বলেন, প্রতিদিনের মতোই আজও পঞ্চায়েত দফতর খোলা হয়েছিল। সদস্যরা কাজের জন্য এসেছিলেন। এমন সময় কিছু ব্যক্তি এবং পঞ্চায়েত কর্মীরা হঠাৎই সেখানে ঢুকে পড়েন এবং গোডাউন থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি একটি হলুদ ফাইল চুরি করে পালিয়ে যান। সেই ব্যক্তিকে ফাইল সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলেও কোনও উত্তর না দিয়েই কার্যত ছুটে পালিয়ে যান তিনি। এরপরই ঘটনার তদন্তের জন্য আসে বারুইপুর থানার পুলিশ। ঘটনার মুহূর্তে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঠিক কোন কোন নথি খোওয়া গিয়েছে সে সম্পর্কেও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। (Baruipur Incident)
বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনে মেয়রের কোনও এক্তিয়ার নেই, তারাতলা বিপর্যয়ে দায় ঝাড়লেন ফিরহাদ
এদিন ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন বিজেপি কর্মী স্বাগতা সোনি। তিনি জানান, এলাকার স্থানীয়দের থেকে খবর পান পঞ্চায়েত থেকে বিভিন্ন নথিপত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন কিছু লোক। খবর পেয়েই পঞ্চায়েতে ছুটে আসেন তিনি। এসে দেখেন রবি মোল্লার সঙ্গে আরও দু’জন ব্যক্তি মিলে বিভিন্ন নথি ট্রাঙ্ক তুলছেন। সেই সময় তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে নথিপত্র সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তাঁরা সঠিক কোনও কারণ দেখাতে পারেননি। এরপরই নানান কাগজপত্র তারা ছিঁড়ে ফেলেন বলেও অভিযোগ করেছেন ওই বিজেপি কর্মী। এই কাজ তৃণমূলেরই, দাবি ওই বিজেপি কর্মীর। ভোটের আগেই বিজেপি কর্মীদের বাড়ি গিয়ে একাধিকবার হুমকি দিয়েছিল এলাকার তৃণমূলের কর্মী সমর্থকেরা। আর এবার বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই নিজেদের দুর্নীতি লুকোতে সমস্ত পুরনো তথ্য ফাইল নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা করছে তারা। (Baruipur Incident)









