তৃণমূল কংগ্রেসে অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হচ্ছে। এক সপ্তাহের মধ্যে দলের তৃতীয় সাংসদ হিসেবে রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রকাশ চিক বরাইক (Prakash Chik Baraik) । এর আগে সুস্মিতা দেব এবং সুখেন্দু শেখর রায় দল ও রাজ্যসভার সদস্যপদ ছেড়ে দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ (Prakash Chik Baraik) প্রকাশ চিক বরাইকের পদত্যাগ দলের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার তাঁর ইস্তফার খবর প্রকাশ্যে আসে। যদিও তিনি এখনও প্রকাশ্যে পদত্যাগের নির্দিষ্ট কারণ জানাননি, তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলের অভ্যন্তরে বাড়তে থাকা অসন্তোষ এবং নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েনের আবহে এই সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
একদিন আগেই তৃণমূল ছেড়েছেন প্রাক্তন কংগ্রেস নেত্রী তথা রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব। তারও আগে দল ছেড়েছিলেন বর্ষীয়ান নেতা সুখেন্দু শেখর রায়। ফলে এক সপ্তাহে দুই সাংসদের পদত্যাগের পর তৃতীয় সাংসদের পদত্যাগ তৃণমূলের সাংসদীয় শক্তি এবং সাংগঠনিক ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
শিক্ষাঙ্গনে দুর্নীতি, দায়িত্ব নিয়েই বিগত সরকারকে কড়া বার্তা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের
কে এই (Prakash Chik Baraik) প্রকাশ চিক বরাইক?
প্রকাশ চিক বরাইক ঝাড়খণ্ড ও আদিবাসী সমাজের পরিচিত মুখ হিসেবে রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করে রাজ্যসভার সদস্য হন এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বিষয় সংসদে তুলে ধরার জন্য পরিচিত ছিলেন। দলের সর্বভারতীয় বিস্তারের কৌশলের অংশ হিসেবেই (Prakash Chik Baraik) তাঁকে সামনে আনা হয়েছিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মত।
তৃণমূলে কেন বাড়ছে অস্বস্তি?
সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। দলে বড় ধরনের বিদ্রোহের খবর সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, ৫৮ জন বিধায়ক দলের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে সমর্থন না করে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই ঘটনাকে দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তৃণমূলের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
একের পর এক সাংসদের পদত্যাগ নিঃসন্দেহে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সংসদে দলের প্রতিনিধিত্বের সংখ্যা কমার পাশাপাশি বিরোধীরা দলীয় নেতৃত্বের উপর চাপ বাড়ানোর সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
(Prakash Chik Baraik) প্রকাশ চিক বরাইকের পদত্যাগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী মুখ হিসেবে দলের কাছে মূল্যবান ছিলেন। তাঁর প্রস্থান তৃণমূলের সর্বভারতীয় বিস্তার এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে প্রভাব বৃদ্ধির কৌশলকেও ধাক্কা দিতে পারে। এখন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং বিদ্রোহী শিবিরের অসন্তোষ মোকাবিলা করে, তার উপরই আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই নির্ভর করবে।
শ্রম ও পরিবহণে বড় দায়িত্ব, ‘শ্রমিক স্বার্থেই লড়াই করব’; মন্ত্রীত্ব পেয়ে বার্তা অর্জুন সিংয়ের

