বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজ্য শুরু হয়েছে প্রথম দফার নির্বাচন। সকাল ৭টা থেকেই বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রের বাইরে লম্বা লাইন। সকালের দিকে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ হলেও বেলা বাড়তেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উত্তেজনার ছবি ধরা পড়ছে। যদিও এর প্রভাব ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং উচ্ছ্বাসে খুব একটা পড়েনি।
ভোটের হার: কোন জেলায় ভোটার হার কত?
বিক্ষিপ্ত অশান্তির ছবির মাঝেই প্রথম দফা নির্বাচনে জেলায় জেলায় ভোটদানে ভোটারদের মধ্য ব্যাপক উৎসাহ নজরে পড়ছে। বেলা ১টা পর্যন্ত বাংলায় ভোটদানের হার ৬২.১৮%। গত ছয় ঘণ্টায় ঝাড়গ্রামে ভোট পড়েছে ৬৫.৩১%, বীরভূমে ভোটের হার ৬৩.৯৩%, পুরুলিয়ায় ভোট পড়েছে ৫৯.৮৩%, দার্জিলিং-এ ৫৯.৮১%। কালিম্পংয়ে ভোট পড়ল ৫৯.৫২%, মালদায় ৫৮.৪৫%, মুর্শিদাবাদে ৬২.৭১%, পশ্চিম বর্ধমানে ৬০.৩৭%, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৬৫.৭৭%, পূর্ব মেদিনীপুরে ৬২.৯০% , আলিপুরদুয়ারে ৬০.০৩%, বাঁকুড়ায় ৬৪.৫৮%, কোচবিহারে ভোটের হার ৬০.৭৫%, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৬৩.০৫%, উত্তর দিনাজপুরে ৬০.০০% এবং জলপাইগুড়িতে ৩৯.৫১% ভোট পড়েছে। (West Bengal Assembly Election)
রাজ্যে অশান্তির টুকরো ছবি
মুর্শিদাবাদের নওদায় তুলকালাম। হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের চরম ধস্তাধস্তি-হাতাহাতি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গেও শুরু হাতাহাতি-ধস্তাধস্তি। মুখোমুখি হুমায়ুন কবীর এবং তৃণমূল কর্মীরা। চূড়ান্ত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয় নওদা এলাকায়।
প্রথম দফার ভোটগ্রহণের দিনেও জেলায় জেলায় অব্যাহত রাজনৈতিক হিংসা। দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে আক্রান্ত হলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকার। পুলিশের সামনেই প্রার্থীকে কিল, চড়, ঘুষি, লাথি মারার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার এর নির্দেশ কমিশনের। (West Bengal Assembly Election)
অশান্তির ছবি বীরভূমেও। মুরারাই এবং লাভপুরে আক্রান্ত হলেন প্রার্থীরা। অভিযোগের তির শাসকদলের দিকে। মুরারইয়ে ২ কংগ্রেস কর্মীকে মারধরের অভিযোগ। রক্তাক্ত বীরভূমের লাভপুরও। লাভপুরের বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝার নির্বাচনী এজেন্টকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ শাসকদলের বিরুদ্ধে।
কোচবিহার চা বাগানের ৪৭ ও ৪৮ নম্বর বুথে ঝামেলা। এদিন এই বুথে এসে বিভিন্ন এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামানিক। এই খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে চলে আসে তৃণমূল প্রার্থী সাবলু বর্মন। এর পরেই শুরু হয় উত্তেজনা। যদিও তৃণমূল অভিযোগ করেন, নিশীথ প্রামানিক টাকা বিলি করছিলেন।
তীব্র গরমে ভোট দিতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন পটাশপুর বিধানসভার ২৩৪ বামনবাড় বুথের ভোটার নীপেন্দ্রনাথ দাস (৫৮)। লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তড়িঘড়ি অচৈতন্য অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মিনিট দশকের মধ্যে প্রাণ হারান ওই ব্যক্তি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন চড়া রোদে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে খবর। (West Bengal Assembly Election)











