পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিল কমিশন। গত ২৯ এপ্রিল রাজ্যের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার বিধানসভা নির্বাচনের পর বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর এলাকায় ভোটদানের স্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগ ওঠায় এবার পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। কোন কোন বুথে হবে পুনরায় ভোট গ্রহণ? (West Bengal Election)
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিম ও ডায়মন্ড হারবার বিধানসভার একাধিক বুথে এই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মোট ১৫টি বুথে পুনরায় ভোট নেওয়া হবে। এর মধ্যে আছে –
১৪২ নম্বর মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা
- উত্তর ইয়ারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় (রুম ২)
- নজরা প্রাথমিক বিদ্যালয় (রুম ১ ও ২)
- দেউলা প্রাথমিক বিদ্যালয় (রুম ১)
- ঘোলা নয়াপাড়া গার্লস হাই মাদ্রাসা (রুম ২)
- একতারা মালয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় (রুম ১ ও ২)
- একতারা মালয়া ধোড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় (রুম ১)
- বাহিরপুয়া কুরকুরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় (রুম ১, ২, ৩)
১৪৩ নম্বর ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা
- বাগদা জুনিয়র হাই স্কুল
- চাঁদা প্রাথমিক বিদ্যালয় (রুম ২)
- হরিদেবপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়
- রায়নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়
মগরাহাট পশ্চিমে ১১টি এবং ডায়মন্ড হারবারে ৪টি বুথে আগামী ২ মে, শনিবার সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পুনর্নির্বাচন হবে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ২৯ এপ্রিল ওই সব বুথগুলিতে কিছু অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। সেই কারণেই ওই বুথগুলির ভোটগ্রহণ বাতিল করে নতুন করে ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, ভোটের দিন ভোটদানের সময় উল্লেখ্য বুথগুলোতে ইভিএমে কারচুপি, বিরোধী প্রার্থীদের বোতাম ঢেকে দেওয়া বা নষ্ট করার মতো ঘটনা ঘটে। সেইসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বৃহস্পতিবার ফোন করেন রাজ্যের CEO মনোজ আগরওয়াল এবং বিশেষ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে। এরপর ওই বুথগুলিতে স্ক্রুটিনি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ডায়মন্ড হারবার, ফলতা, মগরাহাটের সংশ্লিষ্ট বুথগুলিতে স্ক্রুটিনি করেন সুব্রত গুপ্ত। ওই সমস্ত বুথ ভালো করে খতিয়ে দেখার পরই কমিশন এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। (West Bengal Election)
গত ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল ছিল রাজ্যে দু’দফার বিধানসভা নির্বাচন। আগামী ৪ মে ভোট গণনা। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এক্সিট পোলে এগিয়ে রাখা হচ্ছিল পদ্ম শিবিরকেই। এরই মধ্যে ১৫টি বুথে এই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তে কি বদলে যাবে সমস্ত সমীকরণ? উত্তর দেবে সময়ই।

