প্রকৃতির বিরূপ আচরণ ও বাজারের মন্দা। এই দুইয়ের চাপে কার্যত বিপর্যস্ত জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ির আলু চাষিরা। টানা ঝড়-বৃষ্টির জেরে এলাকার বিস্তীর্ণ আলুক্ষেত এখন জলের তলায়। ফলে তৈরী হয়েছে মাঠে থাকা ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা। আর সেই কারণেই চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে এলাকার কৃষকের।(West Bengal)
আবহাওয়া দফতরের বৃষ্টির পূর্বাভাসের পর থেকেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিয়েছে গত কয়েকদিনের লাগাতার ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার, শনিবার ও রবিবার পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে ধূপগুড়ির বহু আলুর জমি কার্যত জলের তলে। কোথাও আবার জমিতে হাঁটুসমান জল জমেছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।(West Bengal)
এই সময়ে জমি থেকে আলু তোলার কাজ শুরু করেছিলেন। পাশাপাশি হিমঘরে পাঠানোর জন্য জমিতেই বস্তাবন্দি করে রাখা হয়ে বিপুল আলু। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সেই আলুর বস্তাগুলিও ভিজে একসার । দীর্ঘ সময় জল জমে থাকলে আলু দ্রুত পচে যাওয়ার আশঙ্কা। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে ক্রমশ উদ্বেগ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে।(West Bengal)
কৃষকদের অভিযোগ, চলতি মরশুমে আলু চাষের খরচ গত বছরের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। এক গাড়ি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। অথচ বর্তমান বাজারদরে সেই আলু বিক্রি করে মিলছে মাত্র ৪০ হাজার টাকা। আবার অনেক ক্ষেত্রে তারও কম। ফলে উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামও তুলতে পারছেন না চাষিরা।
এদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কৃষকদের দাবি, সরকার আলু কেনার আশ্বাস দিলেও তার নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। তাছাড়া যে দামে আলু কেনা হচ্ছে, তাতে ক্ষতির বোঝা কমানো সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন তাঁরা।
ফলে বাজারের মন্দা ও টানা বৃষ্টির দ্বৈত আঘাতে ধূপগুড়ির আলু চাষিদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।(West Bengal)










