শীত এলেই বাঙালির জীবনে উৎসবের আমেজে মেতে ওঠেন বঙ্গবাসী। আর বাঙালির শীতকাল মানেই নলেন গুড় আর পিঠে-পুলির স্বাদ। সেই স্বাদকে পর্যটক ও স্থানীয়দের পাতে পৌঁছে দিতে ঝাড়গ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্র রবীন্দ্র পার্কে শুরু হয়েছে পিঠে-পুলি উৎসব। শীতের মরশুমে ঝাড়গ্রামে ঘুরতে আসা পর্যটক ও স্থানীয় মানুষ—সবার ভিড়েই মুখর হয়ে উঠেছে এই মেলা। এক ছাতার নিচে মিলছে জিভে জল আনা নানা ধরনের টাটকা পিঠে–পুলি। ভাপা, পাটিসাপটা, দুধপুলি থেকে শুরু করে নানান নতুন স্বাদের পিঠে।
এবছর এই পিঠে–পুলি মেলায় মোট ২৩টি স্টল রয়েছে। যার বিশেষত্ব হল—সমস্ত স্টলই মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব চলবে মকর সংক্রান্তি পর্যন্ত। ঝাড়গ্রামের মহিলাদের পরিচালিত গ্রুপের উদ্যোগে এই মেলায় প্রতিদিনই উপচে পড়ছে ভিড়। পর্যটকরা স্টল থেকেই পিঠে খাচ্ছেন। আবার অনেকে বাড়ির জন্য প্যাকেট করে নিয়েও যাচ্ছেন। খাওয়া–দাওয়া আর উৎসবের আনন্দে রবীন্দ্র পার্ক চত্বরে তৈরি হয়েছে একেবারে জমজমাট পরিবেশ।
পরিচালন গ্রুপের অন্যতম সদস্য তনুশ্রী বেরা জানান, প্রতিবছরই শীতের সময় এই পিঠে–পুলি উৎসবের আয়োজন হয়। শীতের সময়ে ঝাড়গ্রাম পর্যটকে ঠাসা থাকে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা এখানে এসে আমাদের হাতের পিঠে খান এবং সঙ্গে করে নিয়ে যান, এটাই আমাদের বড় প্রাপ্তি।
কলকাতা থেকে ঝাড়গ্রামে ঘুরতে আসাএক পর্যটক জানান, প্রতিবছরই তারা এখানে আসেন। পিঠের স্বাদ সত্যিই অসাধারণ। এবছর নতুন ধরনের ‘মাংস পিঠে’ খেয়ে খুব ভালো লেগেছে। আশা করি আগামী বছর আরও বড় করে এই উৎসব হবে।
অন্যদিকে ঝাড়গ্রাম ট্যুরিজমের ফাউন্ডার সুমিত দত্ত জানান, খুবই ভালো একটি উদ্যোগ। পিঠে–পুলি উৎসব ঝাড়গ্রামের পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ইতিমধ্যেই বহু পর্যটক এখানে আসছেন। আগামী দিনে এই উৎসব আরও বড় করে আয়োজন করার জন্য তাদের পাশে থাকবেন।
মকর সংক্রান্তির আগেই জঙ্গলমহলের এই পিঠে–পুলি উৎসব যেন বাড়তি আনন্দ এনে দিয়েছে স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের জীবনে। অরণ্য সুন্দরী ঝাড়গ্রামের জঙ্গল, পাহাড়, ঝরনা আর নদীর সৌন্দর্যের সঙ্গে পিঠে–পুলির স্বাদ—সব মিলিয়ে একেবারে অন্য মুডে ধরা দিচ্ছে ঝাড়গ্রাম।











