বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনও বক্তব্য, সাক্ষাৎকার, অডিও বা ভিডিয়ো আর প্রচার করা যাবে না—এই নির্দেশ আবারও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল বাংলাদেশ সরকার। সম্প্রতি বাংলাদেশের তথ্য অধিদফতর (PID) এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সমস্ত প্রিন্ট, টেলিভিশন, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে আদালতের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
তথ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সেই আদালতের নির্দেশ এখনও কার্যকর রয়েছে। তাই কোনও গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য, সাক্ষাৎকার, অডিও বা ভিডিয়ো প্রকাশ বা প্রচার করা আইন বিরোধী বলে সরকার মনে করিয়ে দিয়েছে। (Sheikh Hasina)
উল্লেখ্য, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হন এবং তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে চলে আসেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধসহ একাধিক মামলার তদন্ত ও বিচার শুরু হয়। আদালতের বক্তব্য অনুযায়ী, এই মামলার বিচার চলাকালীন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর কোনও বক্তব্য প্রচার হলে তদন্ত বা বিচারপ্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে। এমনকি সাক্ষীদের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও থেকেই যায়। সেই কারণেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁর বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেয়।
এবার তথ্য অধিদফতরের তরফেও একটি বিজ্ঞপ্তিত প্রকাশ করে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদালতে দণ্ডিত ও পলাতক ব্যক্তির বক্তব্য, সাক্ষাৎকার বা অডিও-ভিডিয়ো বার্তা প্রচারের ক্ষেত্রে আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই দেশের সব ধরনের গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আদালতের নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিচারব্যবস্থার প্রতি সম্মান দেখিয়ে শেখ হাসিনার কোনও বক্তব্য প্রকাশ বা প্রচার না করার জন্যেও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চাবাহার বন্দরে আমেরিকার হামলা: ভারতের বড় ধাক্কা, লাভের মুখে চিন-পাকিস্তান?
এদিকে সম্প্রতি শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) প্রকাশ্যে বলেছেন, তিনি চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন। তাঁর এই মন্তব্য বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই সরকার আবারও আদালতের পুরনো নিষেধাজ্ঞার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে এবং গণমাধ্যমকে সতর্ক করে দিতেই এই নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলো।

