[ছবি:এক্স]
আমেরিকার হামলায় ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Chabahar Port) চাবাহার বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগে নয়াদিল্লি। কারণ, এই বন্দর ভারতের কাছে শুধু একটি বন্দর নয়, বরং পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। এই জন্য ভারত ইতিমধ্যেই ১২০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও কয়েকশো কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে হামলার প্রভাব ভারতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থে বড় ধাক্কা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন চাবাহার ভারতের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ?
ইরানের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত (Chabahar Port) চাবাহার বন্দর ভারতের বহু বছরের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ। এই বন্দর ব্যবহার করে ভারত পাকিস্তানের ভূখণ্ড এড়িয়ে সরাসরি আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। পাশাপাশি এটি ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডর (INSTC)-এরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা ভারত, ইরান, রাশিয়া-সহ একাধিক দেশের মধ্যে দ্রুত পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে এটি চিন-পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতার পাল্টা কৌশল হিসেবেও বিবেচিত হয়।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি; ইরানে ফের আমেরিকার হামলা
কী ঘটেছে (Chabahar Port) চাবাহারে?
আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন চাবাহার বন্দরের একাধিক অবকাঠামো, মেরিটাইম ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার এবং স্থানীয় জেটিতে হামলা চালায়। হামলার পর এলাকাজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের তরফে আগের দিন জাহাজে হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে লেখেন, “এমন ঘটনা আবার ঘটলে তার জবাব আরও কঠোর হবে।”
অন্যদিকে, ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চাবাহার ছাড়াও সিরিক, বুশেহর ও কোনারাক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং একাধিক স্থানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “অশালীনতার জবাব অশালীনতায় নয়, সাহস ও পদক্ষেপের মাধ্যমে দেওয়া হবে।”
কেন লক্ষ্যবস্তু হল চাবাহার?
ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ অমিত বনসলের মতে, স্ট্রেট অব হরমুজের বাইরে ইরানের একমাত্র বড় সমুদ্রবন্দর চাবাহার, ফলে এটি তেহরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দাবি, ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার ও সামরিক অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ভারত যে অংশ পরিচালনা করে, তা ওই সামরিক এলাকাগুলির অন্তর্ভুক্ত নয়।
ভারতের কী ক্ষতি হতে পারে?
(Chabahar Port) চাবাহারে ক্ষয়ক্ষতি হলে ভারতের বহু বছরের কৌশলগত পরিকল্পনা ধাক্কা খেতে পারে। বন্দর পরিচালনা ব্যাহত হলে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নতুন বিনিয়োগ বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবহণ ব্যয়ও বাড়তে পারে। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়লে অপরিশোধিত তেলের দাম ও শিপিং খরচ বৃদ্ধি পেয়ে ভারতের অর্থনীতির ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে নয়াদিল্লিকে আমেরিকা ও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার কঠিন পরীক্ষার মুখেও পড়তে হবে।
তৃণমূলের ফ্রিজ অ্যাকাউন্ট থেকে শর্তসাপেক্ষে টাকা তোলার অনুমতি হাইকোর্টের
লাভের মুখে পাকিস্তান ও চিন?
বিশ্লেষকদের মতে, (Chabahar Port) চাবাহার দুর্বল হলে পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দর, যা চিনের সহায়তায় তৈরি হয়েছে, তার গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে। বেজিং এই সুযোগে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (CPEC) আরও শক্তিশালী করতে পারে এবং গোয়াদরকে নিরাপদ বিকল্প বন্দর হিসেবে তুলে ধরতে পারে। এর ফলে ভারত মহাসাগরে চিন-পাকিস্তান কৌশলগত অবস্থান আরও মজবুত হতে পারে।
ভারতের সামনে কী পথ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ভারতের উচিত উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানানো, আমেরিকা, ইরান ও আঞ্চলিক দেশগুলির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা জোরদার করা, সমুদ্রপথ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চাবাহার প্রকল্পের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের বিষয়ে আশ্বাস আদায় করা। প্রয়োজনে বিকল্প বাণিজ্যিক রুট ও অংশীদারিত্বের দিকেও নজর দিতে হবে।
(Chabahar Port) চাবাহার শুধুমাত্র একটি বন্দর নয়, ভারতের মধ্য এশিয়ামুখী কৌশলগত স্বপ্নের অন্যতম ভিত্তি। তাই এই বন্দরে হামলার প্রভাব শুধু ইরান-আমেরিকা সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।
ফুটবল ম্যাচে ৯০ মিনিটের, নেপথ্যের ইতিহাস জানলে অবাক হবেন













3 thoughts on “চাবাহার বন্দরে আমেরিকার হামলা: ভারতের বড় ধাক্কা, লাভের মুখে চিন-পাকিস্তান?”