পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত আরও তীব্র আকার নিল। টানা ষষ্ঠ রাতেও ইরানের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালাল মার্কিন সেনাবাহিনী। এবার শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়, একাধিক সেতু, রেল পরিকাঠামো এবং একটি বিমানবন্দরও হামলার নিশানায় আসে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, হোরমোজগান প্রদেশে রাস্তা ও রেলপথে হামলায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। (Iran-Us Conflict)
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীর উপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তার পরেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড CENTCOM জানায়, শুক্রবার ভোর পর্যন্ত চলা অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সেনাবাহিনীর সরঞ্জাম ও সরবরাহ কেন্দ্র এবং নৌবাহিনীর বিভিন্ন সামরিক জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। (Iran-Us Conflict)
হামলার জেরে আহভাজ, কেশম, বুশেহর, দাশতি, বোস্তান, সিরিক এবং বন্দর-এ-লেঙ্গেহ-সহ দক্ষিণ ইরানের একাধিক শহরে বিস্ফোরণের খবর পওয়া গেছে। বন্দর-এ-খামিরের কাছে তিনটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্দর আব্বাসের টেপেহ আল্লাহ আকবর এলাকা-সহ একাধিক জায়গায় হামলা হয়েছে। ইরানশাহরের বিমানবন্দরে হামলার পর বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। কিশ দ্বীপেও কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। (Iran-Us Conflict)
এর পাল্টা জবাবে ইরানও মার্কিন সমর্থক দেশগুলিকে লক্ষ্য করে নতুন করে মিসাইল হামলা ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। জর্ডানে মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার পাশাপাশি কাতারের দিকেও মিসাইল ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতির জেরে কাতার সরকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এছাড়া বাহরিন ও কুয়েতকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।
এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই সংঘাত আরও বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানে সেনাবাহিনীর অভিযান শুরু করার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে কড়া নিয়ন্ত্রণ করে তেহরান। বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ইরানের বন্দরগুলিতে নৌ অবরোধও জারি করেছে। (Iran-Us Conflict)
সামুদ্রিক তথ্য সংস্থা Lloyd’s List Intelligence-এর দাবি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় ২৫ শতাংশ কমে গিয়েছে। নিরাপত্তার কারণে বহু তেলবাহী জাহাজ অবস্থান সংকেত বন্ধ রেখে চলাচল করছে, আবার অনেক জাহাজ যাত্রাই স্থগিত রেখেছে।
এদিকে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো চালিয়ে যায়, তাহলে গোটা অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোতে আরও বড় হামলা চালাতে পারে তেহরান। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, হরমুজ প্রণালীতে কোনও বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। অন্যদিকে ট্রাম্পের দাবি, ইরানে মার্কিন অভিযান সফল হচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই তার ফল দেখা যাবে। (Iran-Us Conflict)
আরও পড়ুন :- মার্কিন হামলায় কাঁপল চাবাহার-সহ ইরানের একাধিক শহর, পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের












