ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ঘিরে ফের চড়ল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পারদ। সোমবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকার বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য রাজ্যের আগের সরকারের জমির ব্যবস্থা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু সেই অনুরোধে কান দেয়নি বলে অভিযোগ করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বাংলায় পালাবদলের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘোষণার পরই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সোমবারই সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলাদেশকে কাঁটাতার দিয়ে ভয় দেখানো যাবে না। বাংলাদেশের জনগণ কাঁটাতারকে ভয় পায় না, সরকারও ভয় পায় না। যেখানে কথা বলার দরকার, সেখানে আমরা কথা বলব।” (Bangladesh Border)
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি নিশানা করে হুমায়ুন কবির বলেন, নির্বাচনী বক্তৃতা আর প্রকৃত শাসন এক নয়। বাংলাদেশ দেখতে চায়, অধিকারী সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মানেন কিনা। তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়ে ভারতীয় সরকারের উচিত আরও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়া, যাতে দু’দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার হয়। বাংলাদেশের সম্পর্ক মূলত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে। তারা ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জড়াতে চায় না। (Bangladesh Border)
সীমান্তে হত্যা ও ‘পুশ-ব্যাক’ অর্থাৎ জোর করে লোকজনকে ফেরত পাঠানোর ঘটনা নিয়ে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “যদি সীমান্তে মানুষ মারা যেতে থাকে তাহলে বাংলাদেশ চুপ করে থাকবে না। আমাদের নিজস্ব পরিকল্পনা ও প্রতিক্রিয়া রয়েছে। আশা করি বিষয়টি সেই দিকে এগোবে না।” কয়েকদিন আগেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সতর্ক করে দিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদলের পর যদি পুশ-ব্যাকের ঘটনা ঘটে তাহলে ঢাকা ব্যবস্থা নেবে। (Bangladesh Border)
এদিকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধে বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
বাংলাদেশের এই কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সীমান্ত ইস্যুতে তারা কোনও সিদ্ধান্ত বা চাপ মেনে নেবে না। দু’পক্ষের সম্পর্কের স্বার্থে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন ঢাকার কর্মকর্তারা। এই ঘটনা দু’দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনার দরজা খুলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
“সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ”, মোদীর সংযমী-বার্তায় তোপ রাহুল গান্ধীর

