[ছবি:এক্স]
ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে ইউরোপের গ্রীষ্ম মানেই ছুটি, ভ্রমণ আর রোদে মাখামাখি আনন্দ। কিন্তু ২০২৬ সালের এই গ্রীষ্ম যেন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। কারণ ইউরোপের আকাশে সূর্য নয়, যেন জ্বলছে আগুনের গোলা (Heatwave)। ফ্রান্স, ব্রিটেন, ইতালি, স্পেন থেকে সুইৎজারল্যান্ড— গোটা পশ্চিম ইউরোপ এখন প্রকৃতির এক নির্মম পরীক্ষার মুখে। তাপমাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মানুষ গরম থেকে বাঁচতে রীতিমতো নদী-খাল-হ্রদে ঝাঁপ দিচ্ছেন, আর সেই চেষ্টাই অনেকের কাছে মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠছে।
At least 40 people have drowned in France while swimming in unsupervised areas to seek relief from a heatwave gripping the country and other parts of Europe.
— Al Jazeera English (@AJEnglish) June 23, 2026
Forecasters warn that the extreme heat is likely to persist through the week.
Al Jazeera’s Natacha Butler reports. pic.twitter.com/wqJGHrdoTc
ফ্রান্সে ভাঙল ৮০ বছরের তাপমাত্রার রেকর্ড
ফ্রান্সে গত কয়েক দিনে গরমের হাত থেকে রেহাই পেতে গিয়ে জলে ডুবে মারা গিয়েছেন অন্তত ৫০ জন। এর মধ্যে বহু তরুণ-তরুণীও রয়েছেন। পাশাপাশি গাড়ির ভিতরে অসহ্য তাপে (Heatwave) প্রাণ হারিয়েছে দুই শিশু। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে মঙ্গলবার ফ্রান্স তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের পিসোস শহরে পারদ ছুঁয়েছে ৪৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ইউরোপের বহু শহরে এখন প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের লড়াই চলছে।
মেটেও-ফ্রান্সের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৫৪টি প্রশাসনিক বিভাগে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে, যা বুধবার বেড়ে ৫৮-এ পৌঁছেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি গত প্রায় ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক তাপপ্রবাহগুলির একটি।
The intense heatwave continues in much of France, Spain and Italy 🌡️
— Met Office (@metoffice) June 23, 2026
France saw its hottest June day on record on Monday, and there is still a chance temperatures could reach 40–45°C in western parts of Europe
Nights are also very warm, remaining above 20°C for many pic.twitter.com/1cDNNN5bYt
‘ওমেগা ব্লক’— মূল কারণ
আবহাওয়াবিদরা এই তাপপ্রবাহের (Heatwave) জন্য দায়ী করছেন একটি বিরল আবহাওয়া প্যাটার্নকে, যার নাম ‘ওমেগা ব্লক’। গ্রিক অক্ষর ওমেগার মতো দেখতে এই প্যাটার্নে উত্তপ্ত বায়ু একটি অঞ্চলের উপর আটকে যায়। ফলে দিনের পর দিন তাপমাত্রা বাড়তেই থাকে, ঠান্ডা হাওয়া ঢুকতে পারে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ও মারাত্মক তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন দেখা যাচ্ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) জানিয়েছে, ইউরোপ বিশ্বের গড় উষ্ণায়নের তুলনায় দ্বিগুণ গতিতে গরম হচ্ছে।
আরও পড়ুন :- ট্রাম্পের ইরান নীতির বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ভোট, সেনেটে প্রথমবার পাশ যুদ্ধক্ষমতা সীমিতর প্রস্তাব
বন্ধ আইফেল টাওয়ার, লুভর; স্কুলে আগাম ছুটি
(Heatwave) গরমের দাপটে ফ্রান্সের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র আইফেল টাওয়ার ও লুভর মিউজিয়াম মঙ্গলবার আগেভাগেই বন্ধ করে দিতে হয়। প্যারিস ফ্যাশন উইকেও দেখা গিয়েছে অদ্ভুত দৃশ্য— দর্শক ও মডেলরা ঘাম ঝরাতে ঝরাতে অনুষ্ঠান শেষ করছেন।
অন্যদিকে ব্রিটেনে জারি হয়েছে ইতিহাসের দ্বিতীয় ‘এক্সট্রিম হিট ওয়ার্নিং’। দক্ষিণ ইংল্যান্ডে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি ছাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শত শত স্কুলে আগাম ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ট্রেন পরিষেবায় গতিনিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে, কারণ অতিরিক্ত তাপে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইতালি-স্পেনেও বিপদসীমার ওপরে পারদ
ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রক ১৬টি বড় শহরে সর্বোচ্চ স্তরের তাপ সতর্কতা জারি করেছে। রোম, মিলান, ফ্লোরেন্স, তুরিন, ভেরোনা— সর্বত্রই গরমে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতে সেখানে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
স্পেনেও তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছেছে। (Heatwave) দাবদাহের মধ্যে হিটস্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে অন্তত দুই প্রবীণের। দাবানলের আশঙ্কায় বহু শহরে ঐতিহ্যবাহী বনফায়ার অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয়েছে।
রাতে ফসল কাটছেন কৃষক, হুড়োহুড়ি ফ্যান কিনতে
এই (Heatwave) তাপপ্রবাহ শুধু মানুষের শরীর নয়, অর্থনীতিকেও কাবু করছে। ফ্রান্সে কৃষকরা দিনের বদলে রাতের অন্ধকারে ফসল কাটছেন, যাতে শ্রমিকরা অসুস্থ না হন এবং আগুন লাগার ঝুঁকি কমে।
প্যারিস ও লন্ডনের দোকানগুলোতে ফ্যান এবং পোর্টেবল এসির চাহিদা আকাশছোঁয়া। এক প্যারিসবাসী মজা করে বলেন, “সকালের কফি না খেয়েই দৌড়ে ফ্যান কিনতে এসেছি। আর পাঁচ মিনিট দেরি হলে সেটাও পেতাম না!”
‘কুলকেশন’-এর খোঁজে পর্যটকরা
যখন ইউরোপের একাংশ আগুনে পুড়ছে, তখন তুলনামূলক ঠান্ডা দেশগুলিতে ভিড় বাড়ছে পর্যটকদের। ক্রোয়েশিয়ার বদলে অনেকেই এখন সুইডেনের মতো ঠান্ডা গন্তব্য বেছে নিচ্ছেন। এই নতুন ট্রেন্ডের নামও হয়ে গেছে— ‘কুলকেশন’।
While large parts of Europe experience a heatwave this week, the Nordic countries are becoming increasingly attractive to foreign tourists seeking a 'coolcation' for a less sweaty summer https://t.co/RakV5NxLCO pic.twitter.com/pXc4v8CrJp
— Reuters (@Reuters) June 23, 2026
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, এই (Heatwave) তাপপ্রবাহ শুধু একটি আবহাওয়ার ঘটনা নয়, বরং জলবায়ু সংকটের বাস্তব চিত্র। আর যদি উষ্ণায়নের গতি না কমে, তবে ইউরোপের এই ‘আগুনে গ্রীষ্ম’ ভবিষ্যতে আরও ভয়ংকর রূপ নিতে পারে।
আরও পড়ুন :- মুম্বইয়ে মৌসুমীর তাণ্ডব! ২৪ ঘণ্টায় ৩০০ মিমি বৃষ্টি, জলে ভাসছে দাদর-আন্ধেরি, জারি লাল সতর্কতা

