---Advertisement---

ট্রাম্পের ইরান নীতির বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ভোট, সেনেটে প্রথমবার পাশ যুদ্ধক্ষমতা সীমিতর প্রস্তাব

June 24, 2026 4:11 PM
US Senate
---Advertisement---

আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতির বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অবস্থান নিল আমেরিকান সেনেট (US Senate)। প্রথমবারের মতো সেনেট একটি ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ বা যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব পাস করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে লাগাম টানার বার্তা দিল। যদিও প্রস্তাবটির পূর্ণ আইনি বল নেই, তবুও এটি ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান যুদ্ধ এবং পরবর্তী চুক্তি নিয়ে কংগ্রেসের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের স্পষ্ট প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

ওয়াশিংটনে মঙ্গলবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত (US Senate) ভোটাভুটিতে ৫০-৪৮ ভোটে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, এটি ছিল ইরান যুদ্ধ থামাতে সেনেটে আনা দশম প্রচেষ্টা। এর আগে বারবার ব্যর্থ হলেও এবার পরিস্থিতি বদলে যায়।

ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি চারজন রিপাবলিকান সেনেটরও প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। তাঁরা হলেন আলাস্কার লিসা মুরকাওস্কি, মেইনের সুসান কলিন্স, কেন্টাকির র‍্যান্ড পল এবং লুইজিয়ানার বিল ক্যাসিডি। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট শিবিরের একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন পেনসিলভেনিয়ার সেনেটরও জন ফেটারম্যান, যিনি প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেন।

এছাড়া রিপাবলিকানদের দুই সদস্য ভোটে অনুপস্থিত থাকায় দলটি পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগাতে পারেনি। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কেন্টাকির প্রবীণ সেনেটরও মিচ ম্যাককনেল, যিনি সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

(US Senate) সেনেট ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ভোটের পর ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, “ট্রাম্পের ইরান অভিযান আমেরিকার জন্য ঐতিহাসিক ভুল। এটি মার্কিন বিদেশনীতির অন্যতম ব্যর্থ অধ্যায় হিসেবে ইতিহাসে লেখা থাকবে।”

এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করার পর থেকেই ডেমোক্র্যাটরা ধারাবাহিকভাবে যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব উত্থাপন করে আসছিলেন। কিন্তু রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ সেনেটে সেগুলি বারবার আটকে যায়।

এদিকে প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ইতিমধ্যেই চলতি মাসের শুরুতে একই ধরনের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। সেখানে চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন।

যদিও এই ধরনের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হয় না এবং সরাসরি আইনেও পরিণত হয় না, তবুও এটি কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থানকে স্পষ্ট করে এবং প্রশাসনের প্রতি একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তি নিয়েও রিপাবলিকানদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বৃহত্তর চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি করেছে ইরান পুনর্গঠনের জন্য প্রস্তাবিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল। সমালোচকদের দাবি, এই অঙ্ক ২০১৫ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ইরান চুক্তির আওতায় ফেরত দেওয়া ১.৭ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় বহু গুণ বেশি।

রিপাবলিকান সেনেটর টেড ক্রুজ প্রকাশ্যে বলেছেন, “আমার বিশ্বাস, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে অত্যন্ত খারাপ পরামর্শ পাচ্ছেন।”

এদিকে যুদ্ধ-পরবর্তী সামরিক ব্যয় নিয়েও নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ৮০ বিলিয়ন ডলারের বরাদ্দ চেয়েছেন। এই অর্থ মূলত যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সামরিক মজুত পুনরায় পূরণে ব্যয় করা হবে।

পেন্টাগনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই খরচ হয়েছিল ১১.৩ বিলিয়ন ডলার। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মতে, পুরো সংঘাতের ব্যয় ইতিমধ্যেই ১০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন চলতি অর্থবছরে মোট ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট চেয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিশেষ বাজেট প্যাকেজের মাধ্যমে অনুমোদনের চেষ্টা চলছে।

(US Senate) সেনেটে এই ভোট তাই শুধু ইরান যুদ্ধ নিয়ে নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের বিদেশনীতি, সামরিক ব্যয় এবং কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াইয়েরও প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে এই ইস্যু ওয়াশিংটনের ক্ষমতার রাজনীতিতে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

আরও পড়ুন :- মুম্বইয়ে মৌসুমীর তাণ্ডব! ২৪ ঘণ্টায় ৩০০ মিমি বৃষ্টি, জলে ভাসছে দাদর-আন্ধেরি, জারি লাল সতর্কতা


Ishani Halder

ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা ও ক্রিকেটের খবরের প্রতি আলাদা আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই সাংবাদিকতায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। মূলত খেলার খবর লিখতেই বেশি ভালো লাগে, পাশাপাশি রাজনীতি, ভাইরাল ও বিভিন্ন চলতি বিষয় নিয়েও খবর লিখতে বিশেষ আগ্রহী। খেলাধুলা দেখতে ও তার বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে ভালো লাগে। দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। লেখালিখির পাশাপাশি বই পড়তে খুব ভালো লাগে এবং নতুন বিষয় জানতে সবসময় আগ্রহী।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Join Now

2 thoughts on “ট্রাম্পের ইরান নীতির বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ভোট, সেনেটে প্রথমবার পাশ যুদ্ধক্ষমতা সীমিতর প্রস্তাব”

Leave a Comment