ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি ও শুল্ক ছাড় নিয়ে যখন উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক মহল তার মাঝেই ভারতের একটি মানচিত্র প্রকাশ করে কূটনৈতিক মহলে ঝড় তুলেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড প্রতিনিধি দফতর (USTR)। গত সপ্তাহে প্রকাশিত একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্টে তারা ভারতের বৃহত্তর মানচিত্র দেখিয়ে ছিল, যেখানে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) এবং আকাসাই চিন অঞ্চল সব অংশকে ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎই USTR এর এক্স হ্যান্ডল থেকে সেই পোস্ট উধাও! ব্যাপার কী? Indian Map Controversy
অনেকেই মনে করছেন কূটনৈতিক সংবেদনশীলতা ও বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতেই পোস্টটি পরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কারণ ওই মানচিত্রটি প্রদর্শনের ফলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল, বিশেষত পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে সংবেদনশীলতার কারণে নানান বিতর্কিত মন্তব্য উঠে আসছিল। আমেরিকা সাধারণত ভারতের যে মানচিত্র ব্যবহার করে যেখানে PoK ও আকসাই চিনকে ‘বিতর্কিত অঞ্চল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এই পোস্টে তা করা হয়নি বরং ওই এলাকাগুলোকে ভারতেরই অংশ হিসেবে দেখানো হয়। অনেক বিশ্লেষক বিষয়টিকে ষড়যন্ত্র নয়তো অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে বিবেচনা করছিলেন। কিন্তু পরে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়ায় শুরু নতুন জল্পনা। তবে কি কেবল কূটনৈতিক সুসম্পর্ক বজায় রাখাই লক্ষ্য ট্রাম্পের? Indian Map Controversy
উল্লেখ্য, এই মানচিত্রটি ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে সামনে এসেছিল, যেখানে দুই দেশ বিভিন্ন পণ্য ও শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে সামগ্রিক বাণিজ্যিক লেনদেন বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে এই বাণিজ্যিক কাঠামো নিয়ে আলোচনার মধ্যেই আবার মানচিত্র বিতর্ক ওঠায় আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
তবে এই ঘটনাটি মূলত কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ সাধারণত বিতর্কিত অঞ্চলগুলির ক্ষেত্রে সতর্ক ও নিরপেক্ষ অবস্থান নেয়, তাই PoK ও আকসাই চিনসহ পূর্ণাঙ্গ ভারতের মানচিত্র প্রকাশ এবং পরে তা সরিয়ে নেওয়া- দুটি ঘটনাই তাৎপর্যপূর্ণ। এটি নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত না হলেও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার প্রচেষ্টা বলেই মনে করা হচ্ছে।












