এবার কি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–ইজরায়েল সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে পাকিস্তানও? সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে এই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু কেন এমন আশঙ্কা?
সম্প্রতি সৌদি আরবে ইরানের আত্মঘাতী ড্রোন হামলার ঘটনা সামনে আসে। এই হামলার পরেই জল্পনা শুরু হয়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পাকিস্তানকেও টেনে আনাতে পারে। কারণ পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে “মিউচুয়াল ডিফেন্স” বা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকবে। অর্থাৎ, এক দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। Iran-Israel War
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, যদি ইরান সরাসরি সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তাহলে কি পাকিস্তান সেই চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধে অংশ নেবে? পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন যে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, পাকিস্তানের সরাসরি যুদ্ধে নামার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। বরং কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে সৌদি আরবকে সমর্থন করাই বেশি সম্ভাব্য। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আরও বড় আকার নিলে তার প্রভাব বিশ্বজুড়েই পড়তে পারে। কারণ অতীতের ঘটনা থেকে এটুকু সবার কাছেই স্পষ্ট পাকিস্তান যুদ্ধ যুদ্ধ করে শোরগোল করলেও যখন আদতে যুদ্ধ শুরু হয় তখন সবার প্রথমে পাকিস্তানই পিছু হটে। ইতিমধ্যে ২০২৫-এ ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন পাকিস্তানের সামরিক শক্তি অনেকটাই ক্ষয় হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সৌদি আরবের সাথে চুক্তি থাকলেও সেই প্রতিশ্রুতিকে আদেও পাকিস্তান রক্ষা করবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন অনেকেই।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার পর ইরান পাল্টা আক্রমণ শুরু করায় মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ এখন নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতাও নিচ্ছে। ফলে এই সংঘাত ভবিষ্যতে আরও কোন কোন দেশকে প্রভাবিত করবে, তা নিয়েই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। Iran-Israel War
সামগ্রিকভাবে, পাকিস্তান সরাসরি যুদ্ধে নামবে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের সঙ্গে পাকিস্তানের নাম জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।












