আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সোমবার রাতে বিমান হামলায় কমপক্ষে ৪০০ জন নিহত এবং প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন। ওমিদ অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হাসপাতাল নামে একটি রিহ্যাব সেন্টারে পাকিস্তান মিসাইল হামলা চালায়, যেখানে সাধারণ রোগী, চিকিৎসক ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন। বোমা ফেলার ফলে হাসপাতালের বড় অংশ ধ্বংস হয়। উদ্ধারকর্মীরা আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। (kabul hospital attack)
তালিবান সরকারের অভিযোগ, হামলার জন্য পাকিস্তান দায়ী। তাঁরা বলছেন, হাসপাতালটি শুধুই রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছিল এবং সেখানে কোনও রকম সামরিক প্রস্তুতি চলছিল না। সাধারণ মানুষই হামলায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন যা যুদ্ধ অপরাধ। কারণ কোনওরকম যুদ্ধ পরিস্থিতিতেই নিরাপরাধ সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করা যুদ্ধ অপরাধের সমান। (kabul hospital attack)
যদিও পাকিস্তান সরকার ও সামরিক কর্তারা এই অভিযোগ পুরোদমে অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, হাসপাতালকে কখনই লক্ষ্য করা হয়নি। পাকিস্তানের দাবি, তাদের লক্ষ্য ছিল সীমান্তবর্তী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সামরিক কাঠামো এবং কোনও নিরীহ মানুষ নয়। (kabul hospital attack)
এই ঘটনার বিরুদ্ধে আফগান ক্রিকেট তারকা রশিদ খান এবং মহম্মদ নবি সোশ্যাল মিডিয়ায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আফগানিস্তানের T20 অধিনায়ক রাশিদ খান বলেছেন, “যেকোনও পরিস্থিতিতেই নাগরিকদের লক্ষ্য করে আক্রমণ কখনও সঠিক হতে পারে না। নিরীহ মানুষের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা হাসপাতালের ওপর আক্রমণ, ইচ্ছাকৃত হোক বা দুর্ঘটনাক্রমে, তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের সমান। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে এই অমানবিক ঘটনা হতবাক করা এবং গভীরভাবে উদ্বেগজনক। আমি জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে। আমি আমার আফগান জনগণের পাশে আছি। আমরা ফের ঘুরে দাঁড়াব উঠব।” (kabul hospital attack)
অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মহম্মদ নবিও এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, “আজ রাতে কাবুলে একটি হাসপাতালে আক্রমণ হয়েছে। চিকিৎসা নিতে আসা তরুণদের পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী হত্যা করেছে। মায়েরা গেটের সামনে দাঁড়িয়ে তাদের সন্তানদের নাম ধরে চিৎকার করছিলেন। রমজানের ২৮ তম রাতে তাঁদের প্রাণ কেড়ে নেওয়া হলো।” (kabul hospital attack)
একেই আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছে। ছোটখাটো গোলাগুলি ও পাল্টা হামলার ঘটনা চলছিল। কিন্তু এইরকম বিধ্বংসী আক্রমণ সহজেই যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মহল। আন্তর্জাতিক মহল এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং উভয় পক্ষকে শান্তি বজায় রাখতে ও সাধারণ মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলেছে। পরিস্থিতি এখনও অস্থির, এখন দেখার এই যে এই অস্থিরতা কোন চরম পরিণতির দিকে এগিয়ে যায় কিনা। (kabul hospital attack)













1 thought on “kabul hospital attack: কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের মিসাইল হামলা, নিহত ৪০০”